ডাঙ্গারচরে কবিরাজ পিতার হাতে প্রতিবন্ধী পুত্রের মৃত্যু
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Oct 6, 2026 ইং
-
পঠিত: ৫১০ বার
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়নের ডাঙ্গারচর এলাকায় বাবার হাতে মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ডাঙ্গারচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের এবাদুল্লাহর বাপের বাড়ি এলাকায় নিজ ঘরে চিকিৎসার নামে ছেলের ওপর নির্যাতনের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত বাবা নুর মোহাম্মদকে আটক করেছে।
নিহত তরুণের নাম সাঈদ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (১৮)। তিনি ডাঙ্গারচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মদের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, জন্মগতভাবেই সাঈদ মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তাঁর চিকিৎসা করানো হচ্ছিল। নিহতের বাবা নুর মোহাম্মদ নিজেও কবিরাজি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার নিজ বাড়িতে ছেলের চিকিৎসা করছিলেন নুর মোহাম্মদ। একপর্যায়ে চিকিৎসার নামে তাঁর মুখের ভেতরে লাঠিসদৃশ কোনো বস্তু প্রবেশ করানো হয়। এতে সাঈদের নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বদি বলেন, ‘কোনো এক ভণ্ড পীরের পরামর্শ অনুযায়ী মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের চিকিৎসা করতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। ছেলেকে হারিয়ে এখন মা-বাবা দুজনই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।’
ঘটনার খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত বাবা নুর মোহাম্মদকে আটক করে পুলিশ।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
জুলধা ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য শিফ্রা রাণী দে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মানসিক প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা অনিরাপদ পদ্ধতির কারণে যেন আর কোনো পরিবারকে এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সেদিকে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
নিহত সাঈদ ছিলেন পরিবারের তিন সন্তানদের মধ্যে বড়। দরিদ্র পরিবারটির এমন ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে চিকিৎসার নামে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কীভাবে তরুণটির মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana
কমেন্ট বক্স