সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Mar 5, 2026 ইং
-
পঠিত: ১৬৩ বার
সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণায় বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক নয়, বরং একটি মানবিক ও ন্যায্য সিলেট গড়ে তোলা—যেখানে উন্নয়নের সুফল সবার ঘরে পৌঁছাবে। জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমেই ‘আকাঙ্ক্ষার সিলেট’ বাস্তবায়ন করা হবে।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত উন্নয়ন ঘোষণাপত্রে মোট ১১টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, পর্যটন, যোগাযোগ, পরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনায় মৌলিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
খন্দকার মুক্তাদির জানান, দেশ ও প্রবাসের বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে 'আকাঙ্ক্ষার সিলেট' নামে একটি উচ্চপর্যায়ের উন্নয়ন পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সিলেট অঞ্চলের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে পাঠিত ঘোষণাপত্রে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমঘন শিল্প স্থাপন, আইটি ও ইনোভেশন হাব গড়ে তোলা, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সরকারি কো-ওয়ার্কিং স্পেস এবং ওয়ান স্টপ ক্যারিয়ার অ্যান্ড জব সেন্টার চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এ ছাড়া এসএমই ও স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড, সহজ ঋণ, ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নিয়ে ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাডভাইজরি বোর্ড’ গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
এদিকে কৃষি খাতে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন করে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, তরুণদের কৃষিতে সম্পৃক্তকরণ, একুয়াফোনিক্স পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ এবং সিলেটকে সবজি রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
অপরদিকে সিলেটের নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও বিকাশের ওপর জোর দেন খন্দকার মুক্তাদির। মরমী ও লোকসংগীতকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সাংস্কৃতিক উৎসব, লোকসংগীত সপ্তাহ এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরো বলেন, চা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার করা হয়। পাশাপাশি চা বাগানগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে সৌরবিদ্যুৎ ও বিকল্প আয়ের উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়।
নারীদের জন্য নিরাপদ পাবলিক টয়লেট, ডে-কেয়ার সেন্টার, আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ, নারীবান্ধব গণপরিবহন এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও বিপণন সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে স্বাস্থ্য খাতে কমিউনিটি ক্লিনিক শক্তিশালীকরণ, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানোন্নয়ন এবং নতুন জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা খাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবা চালুর কথা বলা হয়।
অপরদিকে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনর্খনন, নগরজুড়ে বৃক্ষরোপণ, খেলার মাঠ ও ইনডোর স্পোর্টস সুবিধা স্থাপন এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। যোগাযোগ খাতে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন এবং মনোরেল চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কিশোর গ্যাং, মাদক ও অনলাইন জুয়া দমনে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন এবং বিপথগামী তরুণদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান খন্দকার মুক্তাদির।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক নয়, বরং একটি মানবিক ও ন্যায্য সিলেট গড়ে তোলা—যেখানে উন্নয়নের সুফল সবার ঘরে পৌঁছাবে। জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতার মাধ্যমেই ‘আকাঙ্ক্ষার সিলেট’ বাস্তবায়ন করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Utfal Barua
কমেন্ট বক্স