ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিজয়ের চেতনায় উদীয়মান বাংলাদেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 11, 2026 ইং
  • পঠিত: ৭৮ বার
Overlay/Verification
বিজয়ের চেতনায় উদীয়মান বাংলাদেশ লেখক: লায়ন উজ্জল কান্তি বড়ুয়া::১৬ ডিসেম্বর- একটি দেশ, একটি জাতি, একটি পতাকা, এবং এক গৌরবময় ইতিহাসের জন্মদিন। আজ আমাদের মহান বিজয় দিবস, স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয় উৎসব। এটি কেবল অতীত স্মরণের দিন নয়, এটি আমাদের মূল্যবোধ, দায়বোধ ও স্বাধীনতার অঙ্গীকারকে হৃদয়ে নতুনভাবে জ্বালিয়ে তোলার দিন। ১৯৭১ সালের রক্তঝরা সংগ্রামের অমলিন স্মৃতি আজও আমাদের শিখিয়ে দেয়- ঐক্য, সাহস ও দেশপ্রেমের শক্তি কতটা অদম্য। সেই শক্তিই আমাদের পথপ্রদর্শক, সেই চেতনা আমাদের উদ্দীপনা, এবং সেই বিজয় আমাদের অনন্ত গৌরবের প্রমাণ। বাংলাদেশের বিজয়ের ইতিহাস শুধু ভূখণ্ডের স্বাধীনতা নয়; এটি বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা, পরিচয় ও স্বাধীনচেতার উন্মেষ। তিন মিলিয়ন শহীদ, অসংখ্য নির্যাতিত মা-বোন ও লাখো মুক্তিযোদ্ধার ত্যাগে নির্মিত এই দেশ আজ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বিজয়ের চেতনাই আমাদের দিয়েছে এগিয়ে চলার সাহস, দিয়েছে অদম্য বাংলাদেশ গড়ার দিশা। স্বাধীনতার পর নানা বাধা, সংকট ও প্রতিকূলতার ঘূর্ণিপাকে থেকেও বাংলাদেশ এগিয়েছে দৃপ্ত পদক্ষেপে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, নারী ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, যোগাযোগব্যবস্থা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। বাংলাদেশের সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানে নয়- এটি মানুষের জীবনে, সমাজের পরিবর্তনে এবং নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের পথে যাত্রা আমাদের অদম্য অগ্রযাত্রার প্রমাণ। তবে এগিয়ে চলার পথে চ্যালেঞ্জও কম নয়। দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য, সুশাসনের ঘাটতি, নৈতিক অবক্ষয়, পরিবেশ, জলবায়ুর হুমকি আজও আমাদের অগ্রগতিকে শ্লথ করে। কিন্তু দেশকে এগিয়ে নিতে হলে এই বাধাগুলোকে জয় করার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মকে হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর, দেশপ্রেমিক, মানবিক ও মূল্যবোধ সমৃদ্ধ। বিজয়ের চেতনা তাদের পথ দেখাবে- কোন পথে হাঁটলে দেশ আরও আলোকিত হবে, কোন কাজে জাতির মর্যাদা রক্ষা পাবে। ১৯৭১ আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে তা হলো- ঐক্যই শক্তি, ঐক্যই বিজয়ের মূলভিত্তি। ভাষা, ধর্ম, গোষ্ঠী, রাজনীতি এসব বিভাজন ভুলে এক পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আজকের বাংলাদেশেও সেই ঐক্য প্রয়োজন উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও শান্তির জন্য। ঘৃণা, সহিংসতা ও মিথ্যাচারের রাজনীতিকে পরাজিত করে আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই মহৎ মূল্যবোধের কাছে, যা লালন করেছিলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এএইচএম কামরুজ্জামান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানসহ স্বাধীনতার পথচিত্র নির্মাণকারী অসংখ্য দূরদর্শী নেতা। তাঁদের মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক আদর্শকে ধারণ করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে শান্তি, সৌহার্দ্য ও প্রগতির সত্য চেতনায়। আজকের বাংলাদেশ শুধু বর্তমানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভবিষ্যতের সম্ভাবনার আলোকশিখা। তরুণ প্রজন্ম যে শক্তিতে উজ্জীবিত, নারীসমাজ যে শক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, প্রযুক্তি যে গতিতে বিস্তৃত হচ্ছে, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ আজ সত্যিই উদীয়মান। বিজয়ের চেতনা আমাদের অনুপ্রেরণা দেয়, দেশকে আরও উন্নত, সমৃদ্ধ, মানবিক ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার। বিজয় দিবসের ৫৪তম বর্ষপূর্তিতে আমাদের শপথ হোক- এই দেশ আমাদের গর্ব, এই লাল-সবুজ পতাকাই আমাদের চিরকালের পরিচয়, আর স্বাধীনতার চেতনা হোক আমাদের অন্ধকারে আলোর দিশারি। বিজয়ের অদম্য শক্তিকে হৃদয়ে ধারণ করে আমরা প্রতিজ্ঞা করি, উদীয়মান বাংলাদেশকে নিয়ে যাব সীমাহীন গন্তব্যে, আরও উন্নতর মানবিক দেশ গড়ে তুলব।লাখ শহীদের রক্ত রাঙানো এই পবিত্র মাটি শুধুই ভূমি নয়- এটি আমাদের আত্মার আশ্রয়, আমাদের পরিচয়ের অনির্বাণ দীপশিখা। এ মাটির প্রতি আমাদের দায়িত্ব সাময়িক নয়, এটি চিরন্তন অঙ্গীকার। প্রতিটি শ্বাসে, প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি কর্মে আমরা দেশের মর্যাদা রক্ষা করব, তার ইতিহাস ও গৌরবকে অক্ষুণ্ণ রাখব, এবং বিশ্বপরিমণ্ডলে সীমাহীন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাবে উদীয়মান বাংলাদেশ। লেখক পরিচিতি : সেক্রেটারী, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং কর্ণফুলী এলিট।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Utfal Barua

কমেন্ট বক্স