আলোর উৎসবে পটকার আতঙ্ক নয়, সম্প্রীতির আহ্বান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Nov 7, 2026 ইং
-
পঠিত: ৯ বার
উৎফল বড়ুয়া, ব্যুরো প্রধান, সিলেট ::::
আলোয় অন্ধকার দূর করার বার্তা নিয়ে ফিরে আসে দীপাবলি। ভক্তি, প্রার্থনা আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে শ্যামাপূজার প্রতিটি আয়োজন হয়ে ওঠে পবিত্রতার অনন্য প্রকাশ। সেই উৎসবের আনন্দ যেন বিকট শব্দে আতঙ্ক, অগ্নিকাণ্ড কিংবা জনদুর্ভোগের কারণ না হয় এমন প্রত্যাশা থেকেই অবৈধ পটকার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা। আসন্ন শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা ও দীপাবলির ধর্মীয় পবিত্রতা, সৌন্দর্য ও ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখতে অবৈধভাবে পটকা সরবরাহ, মজুত, বিক্রি ও ফোটানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে উৎসব ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার পক্ষ থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ চন্দ্র ধর এবং মহানগর শাখার আহ্বায়ক অর্জুন ঘোষ ও সদস্যসচিব উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা ও দীপাবলি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি, প্রার্থনা এবং আলোর মাধ্যমে অন্ধকার ও অশুভ শক্তির বিনাশের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এ উৎসবের মূল তাৎপর্য। অথচ অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে প্রতি বছরই কিছু ব্যক্তি পটকা ও আতশবাজি ফোটানোর মাধ্যমে উৎসবের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করেন। এসব কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অপরিহার্য অংশ নয়।
তারা আরও বলেন, পটকার বিকট শব্দে পূজামণ্ডপে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ রোগীদের জন্য এটি মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পটকা ফোটানোর ফলে অগ্নিকাণ্ডসহ নানা দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়। দায়িত্বজ্ঞানহীন এসব কর্মকাণ্ড কেবল জনদুর্ভোগই বাড়ায় না, জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি এবং সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঝুঁকিও তৈরি করে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ চন্দ্র ধর বলেন, শ্যামাপূজা ও দীপাবলি আমাদের অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবের মূল সৌন্দর্য ও তাৎপর্য হচ্ছে ভক্তি, প্রার্থনা, আলোর মাধ্যমে অন্ধকার দূর করা এবং সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করা। কোনোভাবেই পটকা ফোটানো কিংবা বিকট শব্দ সৃষ্টি করে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা ধর্মীয় উৎসবের অংশ হতে পারে না। আমরা চাই, সিলেটসহ সর্বত্র শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উদযাপিত হোক। এ জন্য অবৈধ পটকার সরবরাহ, মজুত ও বিক্রি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অবৈধ পটকার পাচার ও ব্যবসা বন্ধে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের পক্ষ থেকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এসব সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবৈধ পটকার সরবরাহ, পাচার ও ব্যবসা বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও উৎসবমুখর করে তুলতে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি পুনরায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ধর্মীয় উৎসবের সৌন্দর্য ও পবিত্রতা রক্ষা করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। উৎসবের আনন্দ যেন কারও আতঙ্ক, দুর্ভোগ কিংবা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উদযাপনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Utfal Barua
কমেন্ট বক্স