সরকারি ফি মাত্র কয়েকশ টাকা। অথচ সেই সেবা পেতে নাকি গুনতে হচ্ছে ১০ হাজার টাকা! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে। ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক সেবাপ্রার্থী। অভিযোগে উঠে এসেছে ঘুষ দাবি, দফায় দফায় অফিসে ঘোরানো এবং ভয়ভীতির কথাও। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগকারী মো. লোকমান, কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, তার চার নাবালিকা কন্যার নামে চরলক্ষ্যা মৌজায় ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ জমি রয়েছে। নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসলেও চলতি অর্থবছরে কর পরিশোধের জন্য তিনবার আবেদন করেও সফল হননি। প্রতিবারই নানা অজুহাতে আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।
লোকমানের দাবি, কারণ জানতে চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সঞ্জিব কুমার দাসের সামনে দায়িত্ব পালনকারী কম্পিউটার অপারেটর মো. ইসমাইল হোসেন তার প্রতিনিধির কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে কাজ হবে, না দিলে আবেদন আর অনুমোদন হবে না—এমন কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্ধারিত ভূমি উন্নয়ন কর যেখানে মাত্র ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকার মধ্যে, সেখানে একটি কর পরিশোধের জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন অফিসে ঘুরেও সেবা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করা স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিন ধরে লোকমানকে বিভিন্ন অজুহাতে অফিসে ঘুরানো হয়েছে। পরে ঘুষের দাবি করা হয়। ইতোমধ্যে অফিস-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বিভিন্ন ধাপে প্রায় আড়াই হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, টাকা ছাড়া কাজ হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অনেকেই দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি ও অনিয়মের শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি, সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পান, সে জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সঞ্জিব কুমার দাস। তিনি বলেন, "অভিযোগকারীকে আমি চিনি না। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ঘুষ দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি।"
এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন হোসেন বলেন, "আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সরকারি সেবা পেতে যদি সত্যিই ঘুষের অভিযোগের মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা জনসেবার প্রতি মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে। প্রশাসনের তদন্ত শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান জানা যাবে।
Sarwar Rana