চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার নতুন ব্রিজের ঢালে আবারও প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাবা ও ছেলে। সোমবার (২ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটে নতুন ব্রিজ থেকে মইজ্জ্যারটেকগামী সড়কের নতুন ব্রিজ নামার মুখে সংঘটিত এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তি নিহত হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান তার ছেলে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মেট্রো-চ ১১-৫৫৭৯ নম্বরের একটি মাইক্রোবাস, ভোলা-ন ১১-০২৪৯ নম্বরের একটি পণ্যবোঝাই পিকআপ এবং চট্টগ্রাম মেট্রো-হ ১৮-১৯৭৪ নম্বরের একটি মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন দুর্গাপদ মল্লিক (৭৫)। তিনি আনোয়ারা উপজেলার চাতুরী ইউনিয়নের সিংহরা উত্তরপাড়া মল্লিক বাড়ির বাসিন্দা এবং মৃত নগেন্দ্র মল্লিকের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয় তার ছেলে বিধান মল্লিককে (৪৭)। পরে হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহত বিধান মল্লিক পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বাবা-ছেলে মোটরসাইকেলের মাঝখানে একটি বস্তা নিয়ে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাদের ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত দুজনের মরদেহই ফিরে আসে বাড়িতে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর সড়কে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তবে বৃদ্ধ বাবা ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং ছেলেকে বাঁচানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
ঘটনার পর দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত পণ্যবোঝাই পিকআপটির চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ গাড়িগুলো জব্দ করেছে এবং পলাতক চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ পাশে বিশেষ করে পূর্ব পাড়ে ব্রিজ থেকে নামার ঢালটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে স্থাপিত গতি নিয়ন্ত্রক স্পিড ব্রেকার, সড়কের নকশাগত সীমাবদ্ধতা এবং যানবাহনের বেপরোয়া গতি প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা ওই অংশে দ্রুত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই জায়গায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিজ থেকে নামার সময় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে।”
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগে ঈদুল আজহার দিন ২৮ মে সন্ধ্যায় কর্ণফুলীর ভেল্লাপাড়া ব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন ব্রিজ এলাকায় আবারও প্রাণহানির ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
কর্ণফুলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
একই পরিবারের বাবা ও ছেলের এমন করুণ মৃত্যুতে আনোয়ারার চাতুরী ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও সহকর্মীরা এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক অংশে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Sarwar Rana