ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কেইপিজেডে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব, গ্রেফতার অভিযানে গিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও—সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
  • পঠিত: ৪৫৪ বার
Overlay/Verification

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এলাকায় গাছ চুরি ও নিরাপত্তাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এ সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে কর্ণফুলীর দৌলতপুর এলাকায় কেইপিজেডের অধিগ্রহণকৃত ২ নম্বর প্লটে সংঘবদ্ধভাবে প্রবেশ করে একদল দুষ্কৃতকারী। তারা পাহাড়ি এলাকায় বনায়নকৃত প্রায় ১৫টি মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা। এ সময় বাধা দিতে গেলে কেইপিজেডের নিরাপত্তা বিভাগের গার্ড কমান্ডার তোবারক মিয়াকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তার ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় এবং একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
‎আহত তোবারক মিয়াকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় সিকিউরিটি ইনচার্জ সৈয়দ মো. এবাদুর রহমান বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৩। মামলায় মো. সালাউদ্দিনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ গোলাম নবীর নেতৃত্বে একটি দল আসামিদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় আসামিপক্ষের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পুলিশ ফিরে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পুলিশ সেখান থেকে সরে এসে কেইপিজেড ১ নম্বর গেটে অবস্থান নেয়।
পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে একদল দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা উত্তেজিত অবস্থায় গেটের সামনে জড়ো হয়ে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কর্ণফুলী থানা পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের তাৎক্ষণিক ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মামলার প্রধান আসামি সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলে ‘চেইন গ্রুপ’ নামে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তার নেতৃত্বে গাছ চুরি, দখলবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ গোলাম নবী জানান, “আমরা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। গতকাল অভিযানের সময় কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, “এলাকায় বারবার অবৈধ অনুপ্রবেশ করে গাছ কাটা ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্যে তারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে রয়েছেন। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana

কমেন্ট বক্স