কর্ণফুলীতে অনিয়মের অভিযোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ও সিলগালা
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Apr 2, 2026 ইং
-
পঠিত: ৪০৯ বার
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছে এবং নগদ অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের পুরাতন ব্রিজঘাট এলাকার নুর মার্কেটে অবস্থিত ‘কর্ণফুলী হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টার’-এ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন হোসেনের নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেবুন্নেছা। এ সময় কর্ণফুলী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তা প্রদান করে।
অভিযান চলাকালে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানে কোনো ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট উপস্থিত নেই। এছাড়া রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল রিএজেন্ট সেখানে নেই। আরও দেখা যায়, ল্যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ ও লেবেলবিহীন রিএজেন্ট সংরক্ষিত অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এছাড়াও ল্যাব কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও যে তারা অন্য ল্যাবে নমুনা পাঠিয়ে পরীক্ষা করায়, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ধরনের রিসিভ কপি বা পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে পারেনি তারা। একইসঙ্গে অনুমোদন ছাড়াই এবং প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্ট ছাড়াই ফিজিওথেরাপি কার্যক্রম পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এমনকি প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্ট ছাড়াই ইসিজি পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযানে ধরা পড়ে।
অভিযানে আরও দেখা যায়, ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির ল্যাব অত্যন্ত অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা আইপিসি (ইনফেকশন প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল) মেনে চলা হচ্ছিল না। এসব অনিয়ম জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হওয়ায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। একইসঙ্গে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির কার্যক্রম বন্ধ করে সেটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে সরকার নির্ধারিত নিয়মনীতি ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হয়। উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং স্বাস্থ্যসেবার নামে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা বরদাস্ত করা হবে না।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana
কমেন্ট বক্স