পেন্ডুলামের মতো দুলতে দুলতে ম্যাচের ভাগ্য গড়াল শেষ ওভারে। সেখানেও লড়াইয়ের রঙ পাল্টাল বারবার। ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। রিচার্ড গ্লিসনের দারুণ বোলিংয়ে ডারবান’স সুপার জায়ান্টসকে হারাল জোবার্গ সুপার কিংস।
চতুর্থ আসরে এসে প্রথম ‘টাই’ ম্যাচের সাক্ষী হলো দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এসএ টোয়েন্টি। জোহানেসবার্গে বৃহস্পতিবার সুপার কিংস করে ৪ উইকেটে ২০৫ রান। জবাবে সুপার জায়ান্টস ২০৫ রান করে ৮ উইকেটে।
ইংলিশ পেসার গ্লিসনের করা সুপার ওভারে সুপার জায়ান্টস করতে পারে কেবল ৫ রান। নুর আহমাদকে দুটি চার মেরে তিন বলেই সুপার কিংসকে জিতিয়ে দেন রাইলি রুশো।
দুর্দান্ত সুপার ওভারের আগে মূল ম্যাচে ৪১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সুপার কিংসের সফলতম বোলার গ্লিসন। তবে ম্যাচের সেরা তিনি নন। পুরস্কারটি জেতেন ডনোভান ফেরেইরা। ম্যাচে কি না করেছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার!
ব্যাট হাতে ৪ ছক্কা ও এক চারে ১০ বলে ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলের স্কোর দুইশ ছাড়াতে বড় অবদান রাখেন তিনি। অফ স্পিনে ৪ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নেন হাইনরিখ ক্লসেনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পরে তিনি গ্লাভস হাতে কিপিংয়ে করেন ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া রান আউট।
ব্যাটিংয়ে সুপার কিংসের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন শুভাম রাঞ্জানে। তার ৩১ বলের অপরাজিত ইনিংসটি গড়া ৪টি চার ও ২টি ছক্কায়। ৩০ বলে ৪৭ রান করেন অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসি।
লক্ষ্য তাড়ায় ৬১ রানে ৩ উইকেট হারানো সুপার জায়ান্টসের আশা জাগিয়ে রাখেন অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ও ইভান জোন্স। যদিও শেষ ৭ ওভারে ৯৫ রানের কঠিন সমীকরণ মেলানোর চ্যালেঞ্জ ছিল দলটির সামনে।
ইনিংসের ১৩ ওভারের মধ্যে নিজের কোটার চার ওভার বোলিং শেষ করে গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে দাঁড়ান ফেরেইরা।
মার্করাম ও জোন্সের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পরের ৩ ওভারে আসে ৫৫ রান। সপ্তদশ ওভারে মার্করাম আউট হয়ে যান ৩০ বলে ৩৭ রান করে।
১৯তম ওভারে দ্বিতীয় রানের চেষ্টায় রান আউটে শেষ হয় জোন্সের ১৭ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। পরের বলে গ্লিসনের দারুণ ইয়র্কারে বোল্ড ডেভিড ভিসা। এই ওভারে আসে কেবল ৪ রান।
শেষ ওভারে সুপার জায়ান্টসের দরকার পড়ে ১৫ রান। পেস বোলিং অলরাউন্ডার মুল্ডারের প্রথম বলে আসে এক রান। পরের বল ছক্কায় ওড়ান ইথান বশ। তৃতীয় বলে এক রানের পর, চতুর্থ বলে আসেনি কোনো রান।
এরপর টানা দুটি ওয়াইড দেন মুল্ডার। ২ বলে ৭ থেকে সমীকরণ নেমে আসে ২ বলে ৫। পঞ্চম বলে চার মেরে স্কোর সমান করেন সাইমন হার্মার। শেষ বলে অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট ডেলিভারি ব্যাটে লাগাতে পারেননি তিনি, ছোটেন রানের জন্য। বল ধরেই সরাসরি থ্রোয়ে স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন ফেরেইরা, বশ রান আউট ও ম্যাচ ‘টাই।’
গ্লিসনের সুপার ওভারে জস বাটলার ও জোন্স তেমন কিছুই করতে পারেননি। প্রথম বলে জীবন পাওয়া জোন্স শেষ বলে রান আউট হন দ্বিতীয় রানের চেষ্টায়। ফিল্ডারের থ্রোয়ে বল ধরে স্টাম্প ভেঙে এই রান আউটেও অবদান রাখেন ফেরেইরা।
এটিকে ফেরেইরার ম্যাচ বললেও হয়তো ভুল হবে না!
নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক ইনফো বাংলা
দৈনিক ইনফো বাংলা