অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনেমার প্রধান তারকারা—সুপারস্টার মহেশ বাবু, আন্তর্জাতিক আইকন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস এবং দক্ষিণী অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারন।
‘বারাণসী’ নামটি থেকেই স্পষ্ট যে সিনেমার প্রেক্ষাপট হতে চলেছে ভারতের আধ্যাত্মিক রাজধানী কাশী বা বেনারস। রাজামৌলি জানিয়েছেন, এই সিনেমাটি তার স্বপ্নের প্রকল্প এবং এর গল্প বহু বছর ধরে তার ভাবনায় ছিল। পৌরাণিক কাহিনী, ইতিহাস এবং অ্যাডভেঞ্চারের মিশ্রণে তৈরি হতে চলেছে এই বিশাল ক্যানভাসের ছবি।
টিজার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে। টিজারে ৫১২ খ্রিস্টাব্দের বারাণসীর এক ঝলক দেখানো হয়েছে, যেখানে যজ্ঞের আগুন অ্যান্টার্কটিকার বরফে রূপান্তরিত হতে দেখা যায়। আফ্রিকার জঙ্গল থেকে লঙ্কার যুদ্ধের আবহে দুর্দান্ত ভিএফএক্স-এর কাজ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
তবে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে মণিকর্ণিকা ঘাটে ত্রিশূল হাতে এক ষাঁড়ের পিঠে মহেশ বাবুর প্রবেশ দৃশ্যটি।
এই সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার রাজামৌলির পরিচালনায় কাজ করতে চলেছেন মহেশ বাবু। তিনি বলেন, “এটি আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। রাজামৌলির সঙ্গে কাজ করা এক কথায় অসাধারণ অভিজ্ঞতা।
শোনা যাচ্ছে, তার চরিত্রটি রাম ও হনুমানের সম্মিলিত অনুপ্রেরণায় তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ধৈর্য, শক্তি ও শান্ত স্বভাবের এক দারুণ মিশ্রণ দেখা যাবে। অন্যদিকে, বহু বছর পর ভারতীয় সিনেমায় ফিরছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস।
তার উপস্থিতি ছবিটিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে। প্রিয়াঙ্কা জানান, “রাজামৌলির দৃষ্টিভঙ্গি অবিশ্বাস্য এবং এমন একটি সিনেমার অংশ হতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। মালয়ালম সিনেমার শক্তিশালী অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারনও এই ছবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা সিনেমাটির প্যান-ইন্ডিয়া আবেদন আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
রাজামৌলি জানান, ছোটবেলা থেকেই রামায়ণ ও মহাভারতের গল্প তাকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং ‘বারাণসী’ সেই অনুপ্রেরণারই ফসল।
ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী, অস্কার বিজয়ী এম এম কীরাবাণী। বিশাল সেট, আন্তর্জাতিক মানের অ্যাকশন এবং মনোমুগ্ধকর সঙ্গীত—সব মিলিয়ে ‘বারাণসী’ যে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক হতে চলেছে, তা নিয়ে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই।
এস এস রাজামৌলি, বারাণসী, মহেশ বাবু, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, পৃথ্বীরাজ সুকুমারন
দৈনিক ইনফো বাংলা