চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ওঠা অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাজা ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মাহবুবুর রহমানের দাবি, কোনো সংসদ সদস্য বা তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) সুপারিশে নয়, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করেই তাঁরা সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ডিলারশিপ না পেয়ে প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাঁদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কর্ণফুলীর মৌলভীবাজার এলাকায় খাজা ট্রেডার্সের সার দোকানে আয়োজিত পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন মাহবুবুর রহমান। আগের দিন একই এলাকায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন ব্যবসায়ী মো. নুরুল হক।
মাহবুবুর রহমান বলেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদন ও যোগ্যতা বিবেচনা করেই কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, ২০১২ সাল থেকে তাঁরা ধারাবাহিকভাবে ডিলারশিপের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাই তাঁদের নিয়োগের পেছনে রাজনৈতিক সুপারিশ বা অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
সংসদ সদস্য সরওয়ার জামান নিজামের পিএস আখতার নবীর বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা অস্বীকার করে মাহবুবুর রহমান বলেন, আখতার নবীর সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই; তাঁকে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবেও চেনেন না। তাঁর ভাষ্য, ডিলারশিপ নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্যাডে তাঁর নাম বসিয়ে এবং মিছিল-মিটিংয়ের ছবিতে সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে জড়িত দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি ডিলারশিপ ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁদের ডিলারশিপ বাতিল করানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ব্যক্তিরা অভিযোগগুলোর সঠিক তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. ইসমাইল, ব্যবসায়ী মো. সাইফুল রহমান, নুরুল রহমান ও স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ধনু উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, রোববার (১৮ অক্টোবর) নুরুল হক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সার ডিলার নিয়োগে তাঁর আবেদন ও গুদামের তথ্য সঠিক থাকা সত্ত্বেও তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি খাজা ট্রেডার্সের গুদামের অবস্থান এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা
Sarwar Rana