পুলিশ জানিয়েছে, দুটি মামলাই আইনানুগভাবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং পৃথকভাবে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ২৪ আগস্ট ২০২৬ কর্ণফুলী থানায় দায়ের হওয়া মামলা নম্বর-৩৪-এ ডাঙ্গারচর এলাকার বাসিন্দা রোজী আক্তার অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পূর্ব বিরোধের জেরে তার স্বামী মো. সেলিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলায় লোহার রড ও কাঠের বাটাম ব্যবহার করা হয়। এতে মো. সেলিম, আব্দুল হাকিম, রোজী আক্তারসহ একই পরিবারের অন্তত ছয়জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মো. কায়সার, মো. নেছার উদ্দিন, জোবায়ের হোসেন বাবু, মো. আতিকুর রহমান রাকিব, মো. আবুল কাশেম, মো. বাহারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২৫ আগস্ট ২০২৬ কর্ণফুলী থানায় দায়ের হওয়া মামলা নম্বর-৩৭-এ চসিকের ডাঙ্গারচর ৯ নম্বর বিএসসি ঘাটের ইজারাদার মো. আব্দুল কাদের অভিযোগ করেন, ঘাট পরিচালনার জন্য স্থানীয় কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ২২ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডাঙ্গারচর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল সওদাগরের দোকানের দক্ষিণ পাশে বালুর মাঠ এলাকায় তাকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করা হয়।
চাঁদাবাজির ওই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. সেলিম, আব্দুল হালিম, আব্দুর রহিম (রফিক) ও আব্দুল হাকিম (আক্কু)-কে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এদের মধ্যে কয়েকজনই আগের হামলার মামলায় আহত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ রয়েছেন। ফলে একই রাতের ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।
মামলার বাদী ও ঘাটের ইজারাদার মো. আব্দুল কাদের বলেন, তার ছেলে গত ১১ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে এক বছরের জন্য ঘাটটির ইজারা নেন। এরপর থেকেই একটি পক্ষ নিয়মিত মাসিক দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। শুরুতে বিষয়টি আইনগত পর্যায়ে না নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি বলেন, “চসিক থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে ব্যবসা করছি। তারপরও যদি চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে না দেওয়া হয়, তাহলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
অন্যদিকে হামলার মামলার বাদীপক্ষের সদস্য মো. সেলিম দাবি করেন, তাদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পেছনে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি আর্থিক লেনদেনের ঘটনায় সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষ তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সরকারি বা সিটি করপোরেশনের নিয়মে ইজারা নেওয়া কোনো ঘাট পরিচালনার জন্য যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়, তবে তা গুরুতর অভিযোগ। একইভাবে হামলার ঘটনাও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তারা উভয় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুটি মামলার ঘটনার সময়, স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, ঘাটের ইজারার কাগজপত্র, ফোনকলের তথ্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন,
“দুই পক্ষের পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রতিটি মামলা স্বতন্ত্রভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পক্ষের অভিযোগ যাচাই ছাড়া সত্য বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে না।”
Sarwar Rana