আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়েই একজন দৌড়ে অন্ধকার গলিতে মিলিয়ে গেলেন। কিন্তু ততক্ষণে তাঁর রেখে যাওয়া ঘর থেকে একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে ইয়াবা, গাঁজা, চোলাইমদ ও নগদ টাকা। আর পাশের আরেকটি বাড়ি থেকে আটক হন আরেক মাদক কারবারি। কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহায় টাস্কফোর্সের অভিযানে এমন চিত্রই উঠে আসে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ক্রসিং এলাকার রিভারভিউ ক্লাবের উত্তর পাশে পরিচালিত এ অভিযানে মাদক উদ্ধার, একজনের কারাদণ্ড এবং আরেকজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস। অভিযানে অংশ নেয় উপজেলা প্রশাসন, কর্ণফুলী থানা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শিকলবাহা এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ আসছিল প্রশাসনের কাছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। এরপরই অভিযানে নামে টাস্কফোর্স।
অভিযানের সময় শিকলবাহা আদর্শপাড়ার আব্দুল মজিদ সওদাগর বাড়ির বাসিন্দা আব্দুল কাদের (৩৮) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। তবে পালিয়ে গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া মাদকদ্রব্য জব্দ করতে সক্ষম হন অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা।
পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, তাঁর কাছ থেকে ৩০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ২০ লিটার চোলাইমদ এবং নগদ ১ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
একই অভিযানে শিকলবাহা ইউনিয়নের সওদাগর বাড়ির মুজিবুর রহমান (৫৫)-এর কাছ থেকে ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, "আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। এর ধারাবাহিকতায় শিকলবাহা এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদকমুক্ত কর্ণফুলী গড়তে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।"
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কর্ণফুলী এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, "উপজেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও সিএমপি পুলিশের সমন্বয়ে চট্টগ্রামজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক কারবারিকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিকলবাহার কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার নিয়ে উদ্বেগ ছিল। প্রশাসনের এ অভিযানে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের আশা, নিয়মিত অভিযান চললে মাদক কারবার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্ণফুলীতে মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মাদকচক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Sarwar Rana