মাদক ও অনলাইন জুয়া নির্মূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে: সিলেটে নবাগত পুলিশ কমিশনার
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Aug 3, 2026 ইং
-
পঠিত: ৩ বার
সিলেট মহানগরে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) নবনিযুক্ত কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেছেন, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক ও অনলাইন জুয়া নির্মূলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাং, চুরি ও ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে থাকবে পুলিশ।
সোমবার (৩ আগস্ট) সিলেট মহানগর পুলিশের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য আধুনিক ও কর্মক্ষম যুবসমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এ দুটি বিষয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, একজন রিকশাচালকও সারাদিনের কষ্টার্জিত আয় মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ায় হারিয়ে ফেলছেন। এ ধরনের সামাজিক ক্ষতি রোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করা হবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, নগরীর যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাং, চুরি ও ছিনতাইয়ের প্রবণতা বেশি, সেখানে টহল, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী তল্লাশি জোরদার করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি
দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বিস্ফোরক উদ্ধার ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে সিলেটেও সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানান এসএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক কোনো তৎপরতার তথ্য থাকলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ
মতবিনিময় সভায় নগরের অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং তীব্র যানজটের বিষয়টি তুলে ধরেন সাংবাদিকরা।
জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, পূর্ববর্তী কমিশনারের সময় ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে নেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগগুলো অব্যাহত থাকবে। জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, সিলেট মহানগরে যানজট একটি বড় সমস্যা। এটি নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, প্রয়োজনীয় স্থানে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো এবং অতিরিক্ত জনবল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
পুলিশ কমিশনারের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা ও গণমাধ্যমের সহযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নগরবাসীকে যেকোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Utfal Barua
কমেন্ট বক্স