টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ও শিকলবাহা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও বসতঘর। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে রান্নাবান্না। এমন দুর্যোগের সময় পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা।শিকলবাহা ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা নিরসনে টানা কয়েক দিন ধরে মাঠে কাজ করছেন কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবং শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম। স্থানীয়দের নিয়ে ড্রেন ও পানি চলাচলের পথ পরিষ্কার করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে আর্থিক সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।অন্যদিকে বড়উঠান ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহেদুল ইসলাম শামীম। তিনি বড়উঠানের এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা বিতরণ করেন। পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা শুনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।বড়উঠানের এক পানিবন্দি বাসিন্দা বলেন,ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে যাওয়ায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। এমন সময় জাহেদুল ইসলাম শামীম এসে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং খাবার দিয়েছেন। এতে আমরা অনেকটা স্বস্তি পেয়েছি।শিকলবাহার এক বাসিন্দা বলেন,নুরুল ইসলাম মেম্বার কয়েক দিন ধরে নিজে উপস্থিত থেকে পানি নিষ্কাশনের কাজ করছেন। এতে অনেক জায়গার পানি কমতে শুরু করেছে। তিনি মানুষের কষ্ট বুঝে মাঠে কাজ করছেন। এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় আমাদের জন্য কিছুটা হলেও উপকার হচ্ছে। কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন,টানা বৃষ্টিতে শিকলবাহার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক মানুষের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে স্কেভেটার এনে আমরা দিন-রাত পানি নিষ্কাশনের কাজ করছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছি। পানি পুরোপুরি না নামা পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।নুরুল ইসলাম বলেন,গত ১৭/১৮ বছর যাবত আমি এই শিকলবাহাবাসী জন্য কাজ করছি এখনও করতেছি ভবিষ্যতেও করব ইনশাআল্লাহ! আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে শিকলবাহা বাসীর জন্য করে যাব। পানি বন্দি মানুষের জন্য যা পারছি তা দিয়ে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।তিনি আরও বলেন,এ কার্যক্রমে শুধু আমি একা নয় আমার সাতে রয়েছে বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না,উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মনসুর উদ্দিন,৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মো: জাহাঙ্গীর আলম,যুবদল নেতা শওকত আলী ,, শামিমুর রহমান ফয়সাল সহ পুরো এলাকার সাধারণ জনগণ আমার সাথে এই কাজে অংশ নিয়েছে।উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাহেদুল ইসলাম শামীম বলেন,ভারী বর্ষণের কারণে অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ কাজেও যেতে পারছেন না। এলাকার মানুষ আমার আপনজন। তাই তাদের এই দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব। যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন আমরা মানুষের পাশে থাকব।তিনি বলেন,একাজে আমি একা নয় আমার সঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. দিদারুল আলমসহ বড়উঠান ইউপির দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনসাধারণ আমার সাথে কাজ করছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্যোগের সময় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
Sarwar Rana