ঢাকা | বঙ্গাব্দ
Netfie
N
মাত্র ৮,৫০০ টাকায় Website থেকে App তৈরি করুন
✓ Play Store Publish Android App Push Notification
যোগাযোগ করুন → 01884-189495

মায়ের লাশ পড়ে রইল, কবরস্থানের দরজা খুলল না সমাজপতিদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 15, 2026 ইং
  • পঠিত: ৭ বার
Overlay/Verification

দাফনের অনুমতি না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশে সমাহিত; চাঁদা দাবি ও সামাজিক বৈষম্যের অভিযোগ‎জীবনের শেষ যাত্রায় একজন মানুষের সবচেয়ে মৌলিক অধিকারগুলোর একটি হলো মর্যাদাপূর্ণ দাফন। কিন্তু চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার এক গৃহবধূর ক্ষেত্রে সেই অধিকার নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক, ক্ষোভ ও মানবিক প্রশ্ন। মৃত্যুর পর তার মরদেহ নিয়ে স্বজনরা স্থানীয় কবরস্থানে দাফনের অনুমতি চাইলে তা নাকচ করে দেন সমাজপতিরা—এমন অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত পাহাড়ের পাদদেশে তাকে দাফন করতে বাধ্য হয় পরিবার।‎‎ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল এলাকায়। নিহত হিজবুল বাহার (৪২) শনিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় দাফন নিয়ে জটিলতা।‎‎পরিবার সূত্রে জানা যায়, হিজবুল বাহারের বাবা মৃত সৈয়দ ফজলুল হক ১৯৯৬ সালে মেয়ের বিয়ে দেন মৃত আব্দুর রশিদের সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামীর পরিবারের পর্যাপ্ত বসতভিটা না থাকায় স্বামী-সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস শুরু করেন তিনি।‎‎স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে তিনি এলাকায় বসবাস করেছেন। সামাজিক অনুষ্ঠান, ধর্মীয় আয়োজন এবং মহল্লার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু মৃত্যুর পর এসে তাকে ‘সমাজের তালিকাভুক্ত সদস্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।‎‎পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, জীবনের প্রতিটি সামাজিক দায়িত্ব পালনের পরও কেন মৃত্যুর সময় তাকে সমাজের কবরস্থানে জায়গা দেওয়া হলো না—তার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তারা পাননি।‎‎মৃত্যুর পর স্বজনরা স্থানীয় কবরস্থানে দাফনের জন্য সমাজপতিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও অনুমতি মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তারা।‎‎পরিবারের দাবি, সমাজের তালিকাভুক্ত সদস্য না হওয়ার কারণ দেখিয়ে দাফনের অনুমতি আটকে দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুরোধ জানানো হলেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়নি।‎‎এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দাফনের অপেক্ষায় মরদেহ পড়ে থাকলেও সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।‎‎স্বজনদের অভিযোগ, সমাজের সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ বা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। তাদের দাবি, এ কারণেই কবরস্থানে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।‎‎তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সমাজপতিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে তাদের অবস্থান হলো, কবরস্থানের জায়গা সীমিত এবং এটি মূলত সমাজের নিবন্ধিত সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত।‎‎ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৃতার স্বজন ও সমাজপতিদের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে মৃতার ভাই খোকন কে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় সমাজের সভাপতি জামশেদ, টিপু, গিয়াস উদ্দিনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন তারা।‎‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আনোয়ারা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা সমাজপতিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও মরদেহ দাফনের জন্য কিছু জায়গা দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাতেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে পরিবারের সদস্যরা পাহাড়ের একটি ছোট পাদদেশে কবর খুঁড়ে মরদেহ দাফন করেন।‎‎ঘটনার পর এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা সমাজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। এক বৃদ্ধা জানান, তার স্বামী কিছুদিনের জন্য গ্রামের বাইরে বসবাস করায় তাকেও সমাজের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে তার স্বামীর মৃত্যুর সময় একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল পরিবার।‎‎আরেক নারী অভিযোগ করেন, সমাজের তালিকাভুক্ত সদস্য না হওয়ায় সরকারি বরাদ্দে স্থাপিত গভীর নলকূপের পানিও তারা নিয়মিত পান না।
‎ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—কবরস্থানের জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে। সমাজপতিদের দাবি, এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি, যা সমাজের কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছে। তাই এর ব্যবস্থাপনার অধিকার সমাজের হাতে রয়েছে।‎‎অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, জমিটি মূলত সরকারি খাস জমি বা পাহাড়ি সরকারি ভূমির অংশ, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা ব্যবহার করে আসছিল। পরবর্তীতে সেটিকে কবরস্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয়।‎‎জমির মালিকানা নিয়ে এসব দাবি-প্রতিদাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরকারি ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।‎


নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana

কমেন্ট বক্স