ঢাকা | বঙ্গাব্দ
Netfie
N
মাত্র ৮,৫০০ টাকায় Website থেকে App তৈরি করুন
✓ Play Store Publish Android App Push Notification
যোগাযোগ করুন → 01884-189495

পুলিশের উপস্থিতিতেই সাংবাদিক হেনস্তা? প্রশ্নের মুখে পটিয়ার ঘটনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 9, 2026 ইং
  • পঠিত: ২০১ বার
Overlay/Verification

চট্টগ্রামের পটিয়া প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিক হেনস্তা ও হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন। ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠলেও কেন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাংবাদিক মহলসহ স্থানীয়দের মধ্যে।‎‎মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত হন দৈনিক যুগান্তর ও বাংলা টিভির পটিয়া প্রতিনিধি আবেদুজ্জমান আমিরী। পরে তিনি পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।‎‎প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, যুবদল নেতা এস এম রেজা রিপনের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল পটিয়া প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রেস ক্লাবে অবস্থানরত সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে চাপ দেয়। একপর্যায়ে সাংবাদিক আবেদুজ্জমান আমিরীকে টেনে-হিঁচড়ে ক্লাবের বাইরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়।‎‎ঘটনার আকস্মিকতায় প্রেস ক্লাব এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত সাংবাদিকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের কারণে সেখানে উত্তেজনাকর পরিবেশের সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে।‎‎আবেদুজ্জমান আমিরীর দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।‎‎তিনি বলেন, “আমরা প্রতিদিনের মতো প্রেস ক্লাবে বসেছিলাম। হঠাৎ একটি দল সেখানে ঢুকে অন্য সাংবাদিকদের বের করে দেয়। এরপর আমাকে টেনে বাইরে নিয়ে মারধর করা হয়। আমি মনে করি, পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং কিছু অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণেই আমাকে টার্গেট করা হয়েছে।”‎‎তার অভিযোগ, গত মার্চ মাসে স্থানীয় একটি খাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকির মুখে ছিলেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।‎‎তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।‎‎ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পুলিশের ভূমিকা।‎‎আহত সাংবাদিকের দাবি, ঘটনার সময় পটিয়া থানার একজন তদন্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাদের সামনে একজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হলেও তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।‎‎এ অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল? হামলাকারীদের শনাক্ত বা আটক করতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও জানতে চাইছেন সাংবাদিকরা।‎‎তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পটিয়ার সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
‎পটিয়া প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মস্থল হিসেবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।‎‎সাংবাদিক নেতারা বলছেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়; এটি সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশের ওপরও আঘাত।‎‎ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। একাংশের ধারণা, সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত কিছু সংবাদ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।‎‎ফলে হামলার প্রকৃত কারণ, পরিকল্পনাকারী কারা এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত।‎‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, “অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”‎‎তবে ঘটনার সময় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি এবং তাৎক্ষণিক ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana

কমেন্ট বক্স