ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৯১-এর স্মৃতি, আজও চট্টগ্রামে নিরাপত্তাহীন উপকূল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 29, 2026 ইং
  • পঠিত: ১৪৬ বার
Overlay/Verification

১৯৯১ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াল স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়ায় চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনপদের মানুষকে। সেই রাতের জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব আর প্রাণহানির মর্মান্তিক দৃশ্য অনেকের জীবনে অমোচনীয় ক্ষত হয়ে রয়ে গেছে। তিন দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আনোয়ারা, বাঁশখালী ও সন্দ্বীপের বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে এখনো নিরাপত্তাহীনতা কাটেনি। বরং নদীভাঙন, দুর্বল বেড়িবাঁধ এবং অসম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে উপকূলবাসীর উদ্বেগ দিন দিন আরও বাড়ছে।
উপকূল রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বাস্তব চিত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। আনোয়ারা উপকূলে ২০১৬ সালে শুরু হওয়া বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৫৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। প্রকল্পের বেশ কিছু অংশের কাজ এগোলেও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রকল্পের বিলম্ব বা নিম্নমানের কাজ ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বাঁশখালীতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে যেসব পরিবার স্বজন হারিয়েছে, তাদের কাছে প্রতিটি দুর্যোগের মৌসুম মানেই নতুন করে আতঙ্ক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে নির্মিত বেড়িবাঁধগুলো টেকসই না হওয়ায় বারবার ভেঙে গেছে। ফলে জোয়ারের সময় নোনা পানি ঢুকে ফসলি জমি নষ্ট করছে এবং বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ছে। স্থায়ী ও শক্তিশালী বাঁধের অভাবে পুরো অঞ্চল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সন্দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলেও একই চিত্র। কালাপানিয়া, আমানউল্লাহ, দীর্ঘাপাড় ও উড়িরচর ইউনিয়নে নদীভাঙন প্রতিনিয়ত জনপদ গ্রাস করছে। পরিকল্পিত ব্লক বেড়িবাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও অনেক জায়গায় কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। কোথাও বসানো কংক্রিট ব্লক সরে গেছে, কোথাও আবার ধসে পড়েছে। ফলে জোয়ার-ভাটার চাপে উপকূলের জমি দ্রুত বিলীন হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন।
উপকূলবাসীর অভিযোগ, শত শত কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও সঠিক তদারকি ও পরিকল্পনার অভাবে প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও দুর্বল নির্মাণ কাজের কারণে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অধরাই থেকে যাচ্ছে। ফলে প্রতিবার ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম এলেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনমনে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিওব্যাগ ফেলা, ব্লক স্থাপনসহ তীর সংরক্ষণে বিভিন্ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভবিষ্যতে দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ও টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে উপকূল সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
উপকূলবাসীর প্রত্যাশা—১৯৯১ সালের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা যেন আর কখনো ফিরে না আসে। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই ও মানসম্পন্ন বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় অতীতের সেই দুঃস্বপ্ন আবারও বাস্তবে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana

কমেন্ট বক্স