ভাটিয়ারীতে চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন, পুড়ে গেল ২ বগি
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Mar 26, 2026 ইং
-
পঠিত: ১৯৯ বার
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় চলন্ত চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রেনটির দুটি বগি পুড়ে যায়। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল প্রায় ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিএমএ গেট এলাকার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ একটি বগিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরেকটি বগিতে। এতে একটি পাওয়ার কার (ইঞ্জিন বগি) এবং একটি যাত্রীবাহী এসি বগি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি পোর্ট লিংক গেট অতিক্রম করার সময় বগির ভেতর থেকে আগুন ও ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি দ্রুত গেটম্যানকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগি আলাদা করে ফেলা হয়। এতে যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)-এর সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। প্রায় স্বল্প সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার আহসান আলী জানান, সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত দুটি বগির মধ্যে একটি ছিল যাত্রীবাহী এসি বগি এবং অন্যটি পাওয়ার কার বা ইঞ্জিন বগি।
ফৌজদারহাট রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ জানান, ট্রেনটির পাওয়ার কার বগি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা অভিমুখী রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana
কমেন্ট বক্স