আপিলে সাড়া পেল না জামায়াত প্রার্থী ফজলুল হক, মনোনয়ন বাতিলই থাকছে

প্রকাশিত: 07:17 সকাল, 18 মার্চ 2026
দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে কমিশন তার আবেদন নামঞ্জুর করে। শুনানিতে ফজলুল হকের পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইসি সিদ্ধান্তে আসে যে, মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে সঠিক ছিল। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন। সে সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, ফজলুল হক হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করলেও তার পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রামাণ্য নথি জমা দেননি। মনোনয়নপত্রে দেওয়া হলফনামায় ফজলুল হক দাবি করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন এবং গত ২৮ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। তবে আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব ত্যাগের সপক্ষে নির্ভরযোগ্য ও বৈধ কাগজপত্র দাখিল না করায় তার মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে জানানো হয়। ইসি সূত্র জানায়, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন আইন ও সংবিধানের বিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। যথাযথ নথিপত্র ছাড়া কেবল হলফনামার ভিত্তিতে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করার সুযোগ নেই। এ কারণেই আপিল শুনানিতেও ফজলুল হকের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। উল্লেখ্য, একই দিনে চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ফলে এ আসনে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় বিএনপি প্রার্থী থাকলেও জামায়াত প্রার্থী হিসেবে এ কে এম ফজলুল হক অংশ নিতে পারছেন না। প্রসঙ্গত, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সারাদেশে মোট ৬৪৫টি আপিল নির্বাচন কমিশনে জমা পড়েছে। এসব আপিলের শুনানি শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।