অজ্ঞাত হামলাকারীদের গুলিতে এরশাদ উল্লাহ আহত, বাবলার মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়ালো
প্রকাশিত: 07:17 সকাল, 18 মার্চ 2026
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ এলাকায় অজ্ঞাত সশস্ত্র হামলাকারীদের গুলিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে চালিয়াতলী এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সরোয়ার হোসেন বাবলাও গুলিবিদ্ধ হন। তবে তিনি মারা গেছেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ এখনো বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে এরশাদ উল্লাহ তার সমর্থকদের নিয়ে চালিয়াতলী এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় একদল অজ্ঞাত অস্ত্রধারী হঠাৎ করে গুলি চালায়। এতে এরশাদ উল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলিবিদ্ধদের মধ্যে চট্টগ্রামের চিহ্নিত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলাও ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় সাদা পোশাক পরিহিত এক যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই যুবকই সরোয়ার হোসেন বাবলা।
জানা গেছে, পাঁচটি খুনসহ অন্তত ১৮টি মামলার আসামি ছিলেন বাবলা। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তির পর থেকে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, “আমরা হাসপাতালে যাচ্ছি। এরশাদ উল্লাহর অবস্থা এখনো গুরুতর। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।”
বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বাকলিয়া) আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “গুলির ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।”
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কে আশ্রয় নেয় নিকটস্থ ভবনে। হামলার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা না কি এলাকা দখলসংক্রান্ত বিরোধ—তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।