জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রকাশিত: 09:26 সকাল, 22 সেপ্ট 2026
বাপসনিউজ::::
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে পাঁচ দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,সকালে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার্কিশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা। খবর আইবিএননিউজ ।প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে এসে পৌঁছান ।সেখান থেকে তিনি ম্যানহাটনের Hyatt Grand Central New York হোটেলে যাবেন।
২২ সেপ্টেম্বর: ২০২৬,জাতিসংঘে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও একাধিক বৈঠক
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
দিনভর বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। এর মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে বলে সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিকেলে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে। সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর: রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যু
বুধবার সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হবে রোহিঙ্গা সংকট। বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
জাতিসংঘের এই সপ্তাহের কর্মসূচিতে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও রয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এদিন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠক এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর: ২০২৬,জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ। তাঁর বক্তব্য নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তবে জাতিসংঘের কর্মসূচি অনুযায়ী সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
এর আগে তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তির ওপর একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন।
সন্ধ্যায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আয়োজিত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর: ওয়াল স্ট্রিট বৈঠক ও নিউইয়র্ক ত্যাগ
শুক্রবার সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের আর্থিক ও ব্যবসায়িক মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। জেপি মরগানের আয়োজনে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
এরপর কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক ঝুঁকি নিয়ে আলোচনার জন্য ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গেও সম্ভাব্য বৈঠক রয়েছে।
সফরের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের EK202 ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর ২৬ সেপ্টেম্বর২০২৬, নিউইয়র্ক ত্যাগ এবং ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর সূচির কথা বলা হয়েছে।
রোহিঙ্গা, জলবায়ু, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে—রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা নিউইয়র্কে সমবেত হয়েছেন। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,পর্যন্ত চলবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর তাই বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় কূটনীতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে ভাষণ দেয়ার সময় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সামনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ,পূর্বাঞ্চল আওয়ামী লীগ,দক্ষিণাঞ্চল আওয়ামী লীগ.পশ্চিমাঞ্চল আওয়ামী লীগ,সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠন সমুহসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী,কবি, সাংবাদিক,সাহিত্যিক,লেখকসহ প্রবাসী বাঙালিরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করবে।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিসহ সকল সহযোগী অঙ্গসংগঠন সমুহ জাতিসংঘ সামনে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা ও অভিনন্দন জানিয়ে শান্তি সমাবেশ করবে বলে বাপসনিউজকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ ।