সিলেটের শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে পাওয়া গেল ৮৮ লাখ ৯২ হাজার টাকা

প্রকাশিত: 03:54 রাত, 20 সেপ্ট 2026
উৎফল বড়ুয়া, ব্যুরো প্রধান, সিলেট সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স (ডেগচি) এক মাস চার দিন পর খুলে নগদ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়াও স্বর্ণ, রুপাসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণনা শেষে মোট টাকার পরিমাণ ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মো. মশিউর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এর আগে সকাল ১০টার দিকে মাজারের তিনটি ডেগচি ও পাঁচটি দানবাক্সের সিলগালা খোলার পর চতুর্থবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। দিনভর চলে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী গণনার কাজ। সিসিক প্রশাসক জানান, দানবাক্স ও ডেগচি থেকে মোট ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি। মাজারের দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে—ইংল্যান্ডের পাউন্ড ৫, ভারতীয় রুপি ৩ হাজার ৯৯৪, থাইল্যান্ডের মুদ্রা ৫ বাথ, সৌদি রিয়াল ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ২৯, আমেরিকান ডলার ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের মুদ্রা ৪০৩ বায়সা, আরব আমিরাতের দিরহাম ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকি দিনার ১ দিনার, কাতারি রিয়াল ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরো ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের মুদ্রা ০.০২৫, পাপুয়া নিউ গিনির মুদ্রা ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া। এ সময় নজরানা হিসেবে বেশ কিছু গরু ও ছাগল পাওয়া গেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আজ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ বা যারা উপস্থিত হয়েছেন, তাদের মাধ্যমে সিলেটে বসবাসরত এবং বহির্বিশ্বে যারা আছেন, শাহজালাল (রহ.)-এর অনুরক্ত এবং যারা এই মাজার সম্পর্কে খবর রাখেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমরা এই নগদ অর্থের বিবরণ তুলে ধরলাম।” তিনি আরও বলেন, “সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের যে কমিটি, সেই কমিটির আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট আমরা তৈরি করেছি। খুব তাড়াতাড়ি বাণিজ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমকে ডেকে নিয়ে সে রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন।” উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন প্রথমবার ও ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হয়। দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই এবং তৃতীয় দফায় ১৫ আগস্ট মাজারের ডেগচি ও দানবাক্স খুলে গণনা করা হয়।