শুনানি শেষে চৌকিদারের হুমকির মুখে অভিযোগকারী, প্রতিকার চেয়ে ইউএনওকে চিঠি

প্রকাশিত: 08:46 সকাল, 17 সেপ্ট 2026

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা ইউনিয়ন পরিষদে এক শুনানি শেষে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে গালাগালি ও মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নূর আবছার।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি অভিযোগের বিষয়ে শুনানির জন্য তিনি জুলধা ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হন। ওই সময় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পুনরায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাকে।

অভিযোগকারীর ভাষ্যমতে, পরিষদ থেকে বের হয়ে আসার সময় ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার মো. নূর হোসেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপস্থিত অন্যান্যদের সামনেই তাকে অকথ্য ও অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন এবং মারধরের হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক আতঙ্কে ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন নূর আবছার। তিনি জুলধা ৫নং ওয়ার্ডের জামালের বাপের বাড়ির বাসিন্দা।

লিখিত অভিযোগে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক চৌকিদার নূর হোসেনের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার যেন হতে না হয়, সে বিষয়েও নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে জুলধা ইউনিয়ন পরিষদ সচিব মিল্টন চৌধুরী বলেন, চৌকিদার ও অভিযোগকারী দুজনই প্রতিবেশী এবং তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল। সামনাসামনি হওয়াতে কথাকাটাকাটি হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন কর্মচারী শুনানির বাদী-বিবাদীর মধ্যে হস্তক্ষেপ করতে পারেন কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে জুলধা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য মো. সেলিম বলেন, স্থানীয় সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন, পূর্বে গ্রাম্য আদালতে যে অভিযোগের শুনানি হচ্ছিল, তার মূল বিষয়ও ছিলেন চৌকিদার নূর হোসেন। তিনি জানান, ওই চৌকিদারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে যে, স্থানীয় ব্যক্তিরা পরিষদে সেবা নিতে গেলে তার কাছ থেকে লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগও দিয়েছেন বলে জানান।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত চৌকিদার নূর হোসেনের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় তদন্ত ও ব্যবস্থা নেবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে ইউএনওর পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।