ইউটার্ন নেওয়া কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় থেঁতলে গেল মাইক্রোবাস, নিহত ৩, আহত অনেকে
প্রকাশিত: 04:31 দুপুর, 12 সেপ্ট 2026
রাত তখন পৌনে দুইটা। আগ্রাবাদের এক কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে খুশি মনে বাড়ি ফিরছিলেন ১১ জন যাত্রী। গন্তব্য কক্সবাজারের ঈদগাহ। কেউ কেউ হয়তো তখনো চোখ বুজে ভাবছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানের আনন্দমুখর মুহূর্তগুলোর কথা। কিন্তু কেউ জানতেন না, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা চৌমুহনীতে অপেক্ষা করছে এক ভয়াবহ পরিণতি।
কর্ণফুলী থানা এলাকার শিকলবাহা চৌমুহনীতে তখন ইউটার্ন নিচ্ছিল একটি কাভার্ডভ্যান (চট্টমেট্রো ল-১১-৪৪৭৪)। ঠিক সেই মুহূর্তে অনিয়ন্ত্রিত দ্রুতগতিতে ছুটে আসা মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-১২-৯৫১৬) সরাসরি ধাক্কা দেয় কাভার্ডভ্যানের গায়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটে যায় সর্বনাশ—লোহার দানবের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়ে-মুচড়ে যায় গোটা মাইক্রোবাসটি, যেন কাগজের গাড়ির মতো থেঁতলে যায় সামনের অংশ।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এমনই ছিল যে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুজন—মোঃ ফেরদৌস আলম(৫৫) এবং মিপতা(১৭)। বাকি সাতজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে হাসপাতালে পৌঁছানোর পরই মৃত ঘোষণা করা হয় মাইক্রোবাসের চালক মুন্না'কে (৪০)। এক রাতেই তিনটি প্রাণ কেড়ে নেয় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
মাইক্রোবাসে থাকা মোট ১১ জনের মধ্যে ছিলেন ১০ জন যাত্রী ও একজন চালক—৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং চালক। ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান দুজন—কক্সবাজার ঈদগাহ মাইজপাড়ার বাসিন্দা মীর কাশেম (৬০) এবং শামসুল আলম (৫৫)। তারা দুজন মোটামুটি শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকলে ভেঙ্গে পড়েছে ভিতর থেকে। যাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক বলে জানা গেছে। বাকিদের মধ্যে যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের অবস্থাও গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
দুর্ঘটনার পরপরই কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করে পুলিশ, তবে ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা রয়েছেন গাড়ির চালক ও তার সহকারী। মহাসড়কের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের এলাকা থেকে ছুটে আসেন স্থানীয়রা, ঘটনাস্থলে সৃষ্টি হয় শোকাবহ পরিবেশ।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হচ্ছে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদের সঙ্গে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে পলাতক চালক ও হেল্পারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
একটি আনন্দঘন বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথ যে এভাবে রূপ নেবে মৃত্যুর মিছিলে, তা কল্পনাও করতে পারেননি নিহত ও আহতদের পরিবার। রাতের আঁধারে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আরও একবার সামনে নিয়ে এলো মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ভয়াবহ পরিণতির প্রশ্ন।