দীর্ঘ ১৯ বছর পর নির্বাচন, পুরাতন ব্রিজঘাট ব্যবসায়ী সমিতিতে নতুন নেতৃত্ব
প্রকাশিত: 01:28 দুপুর, 07 সেপ্ট 2026
দীর্ঘ ১৯ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব বেছে নিলেন কর্ণফুলীর চরপাথরঘাটা পুরাতন ব্রীজঘাট ব্যবসায়ী কল্যাণ ও সমিতির সদস্যরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয় সমিতির দ্বি-বার্ষিক (২০২৬-২০২৮) নির্বাচন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে নিবন্ধিত (নিবন্ধন নং: চট্ট ২৮১৭/২০০৮) এই সংগঠনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদে।
সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। মোট ভোটার ছিলেন ৯৫ জন, যাদের মধ্যে ভোট পড়ে ৮৯টি। সাতটি পদে মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, আর দুজন নির্বাহী সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বিকেল সাড়ে তিনটায় নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন সদস্যের সদস্যপদ বাতিল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হওয়ায় সেই নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়। সম্প্রতি আদালতের রায়ের পর দীর্ঘ ১৯ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. নুরুল আফসার কালু, সহকারী নির্বাচন কমিশনার ছিলেন এরশাদ আহমেদ এবং নির্বাচন সদস্য সচিব ছিলেন রাজিবুল হক রাজিব। গত ২২ আগস্ট নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে পুরাতন ব্রীজঘাট এলাকায় শুরু হয় নির্বাচনী উত্তাপ। সার্বিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন ইউনিয়নের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ও কর্ণফুলী থানার পুলিশ সদস্যরা। তবে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা—নির্বাচনী কেন্দ্রের সামনে প্রার্থী সমর্থকদের ভিড় দেখা গেলেও পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সার্বিকভাবে ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।
সভাপতি পদে চেয়ার প্রতীক নিয়ে ৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন নুরুল আফসার সদাগর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের নুরুদ্দিন পেয়েছেন ১৬ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাজ প্রতীক নিয়ে ৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন নুরুল আজম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রজাপতি প্রতীকের নিজামুদ্দিন কাউসার পেয়েছেন ৩৯ ভোট।
সিনিয়র সহসভাপতি পদে চাকা প্রতীক নিয়ে ৫১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সালাউদ্দিন পথিক। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাপ ফুল প্রতীকের নুরুল আফসার পেয়েছেন ৩৪ ভোট।
যুগ্ম সম্পাদক পদে বাঘ প্রতীক নিয়ে ৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আবুল কাশেম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘুড়ি প্রতীকের আনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ২৫ ভোট।
অর্থ সম্পাদক পদে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৪৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আব্দুল আলী নয়ন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গরুর গাড়ি প্রতীকের বাদশা মিয়া পেয়েছেন ৩৭ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মাছ প্রতীক নিয়ে ৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আবু জাফর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আপেল প্রতীকের মো. ফারুক পেয়েছেন ৩২ ভোট।
ক্রীড়া ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ৪৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আব্দুস সবুর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল প্রতীকের সাইফুদ্দিন পেয়েছেন ৩৪ ভোট।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের অচলাবস্থা কাটিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ঘিরে ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের মধ্যে দেখা গেছে বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা। নবনির্বাচিত কমিটির কাছে সমিতির সদস্যদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সংগঠনটি এখন থেকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।