হাইভোল্টেজ লাইন স্থাপনের অভিযোগে ক্ষোভ, কর্ণফুলীতে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ সমাবেশ

প্রকাশিত: 07:23 বিকাল, 21 আগ 2026
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ একটি আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের পরিকল্পনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল ৫টায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তারা দাবি করেন, একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষায় পরিকল্পিতভাবে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
‎সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রায় ২০টি পরিবারের মালিকানাধীন প্রায় ২ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই জমিই এসব পরিবারের একমাত্র সম্বল এবং ভবিষ্যতে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তাই যেকোনো মূল্যে এই পরিকল্পনা বাতিলের দাবি জানান তারা।
‎ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিকল্প পথ থাকা সত্ত্বেও তাদের জমির ওপর দিয়ে লাইন নেওয়ার উদ্যোগ অযৌক্তিক এবং এতে ভবিষ্যতে পরিবারগুলোর জীবন ও সম্পত্তি ঝুঁকির মুখে পড়বে।
‎সমাবেশে এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১১৮৩) ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব অভিযোগের আড়ালে প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো একটি শক্তিশালী পক্ষ ও ব্যবসায়িক স্বার্থকে রক্ষা করা এবং নিরীহ জমির মালিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। তারা এটিকে একটি ষড়যন্ত্রমূলক প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেন।
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযোগের ভিত্তিতে কর্ণফুলী থানা পুলিশ কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালায়, যা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে তোলে। তারা আরও দাবি করেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হবে বলে মন্তব্য করেন, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
‎তবে এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার এএসআই (নিরস্ত্র) মো. নূরুল আমিন বলেন, সাধারণ ডায়রি (জিডি নং ৮৭৪)ভাইয়ে ভাইয়ের মধ্যে হুমকি ধমকির অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। কারও সঙ্গে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর আচরণ বা বিশেষ কোনো কথা হয়নি। অভিযোগটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
‎প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা আবুল আহমেদ। তিনি বলেন, “আমাদের বাড়ির ভেতরের রাস্তা দিয়ে হাইভোল্টেজ লাইন গেলে শিশু, নারী ও বয়স্ক সবাই স্থায়ী ঝুঁকিতে থাকবে। আমরা নিরাপদ বিকল্প পথ ব্যবহারের দাবি জানাই।”
‎বদিউল আলম সওদাগর বলেন, “২০টি পরিবার এই জমির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের একমাত্র সম্বল নষ্ট করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না।”
‎শাহনাজ বেগম বলেন, “আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নই। তবে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন গ্রহণযোগ্য নয়।”
‎জাগির হোসেন বলেন, “যদি বিকল্প রুটে বিদ্যুৎ লাইন নেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে লাইন নেওয়ার প্রয়োজন কী?”
‎শাহেদ বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিষয়টির মানবিক সমাধান চাই। কোনো পরিবারের ক্ষতি করে উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
‎এদিকে, বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের বিষয়ে যিনি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই মো. আরমানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎এবিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন প্রতিবেদকে জানান, "বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগের উপর। আমাদের সেখানে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ নেই। থানা পুলিশ ঐ জায়গা গিয়েছে জিডি তদন্ত করতে। কোন অভিযোগ পেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।" বিদ্যুৎ বিভাগের কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎সমাবেশ শেষে এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে বিকল্প রুটে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, প্রকৃত তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো পরিবারের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করতে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান নিশ্চিত করতে।