হোটেলে আত্মগোপন, শেষ রক্ষা হলো না—কর্ণফুলীর গ্যাস সিলিন্ডার আত্মসাৎ মামলায় গ্রেপ্তার ২
প্রকাশিত: 01:59 দুপুর, 21 আগ 2026
কর্ণফুলী থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায় ৫৭৪টি গ্যাসের সিলিন্ডার ও একটি পণ্যবাহী ট্রাক। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। মোবাইল ফোন বন্ধ, কোনো খোঁজ নেই। তবে পুলিশের তদন্ত থেমে থাকেনি। একের পর এক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে অবশেষে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে উখিয়া থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের আত্মসাৎ হওয়া ট্রাকও উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন কুমিল্লার লালমাই উপজেলার মো. আল আমিন (২৫) এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার মো. মাহিন খান (২৩)।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেল হেলাল রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির নগদ ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা আত্মসাৎ হওয়া ট্রাকের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের উখিয়া থানাধীন মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ট্রাকটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে মামলার তদন্তে কর্ণফুলী ও আনোয়ারা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আত্মসাৎ হওয়া ৯৬টি গ্যাসের সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আত্মসাৎ হওয়া বাকি সিলিন্ডার উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন বড়উঠান রাস্তার মাথার পূর্ব পাশে মেডিকেল রোড এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আজিজ ট্রেডিং থেকে চালক মো. আল আমিন, নুরুল আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জন ৫৭৪টি গ্যাসের সিলিন্ডার ও একটি ট্রাক আত্মসাৎ করে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সোহেল কর্ণফুলী থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, "পুলিশ আন্তরিকভাবে তদন্ত করেছে বলেই এত দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রাক ও মালামালের একটি অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আশা করছি বাকি মালামালও উদ্ধার হবে।"
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাকির হোসেন জানান, কক্সবাজার থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া থেকে ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্ণফুলী ও আনোয়ারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মসাৎ হওয়া বেশ কিছু গ্যাসের সিলিন্ডারও উদ্ধার করা হয়েছে।
কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, "গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।"
পুলিশের ধারণা, আত্মসাৎ হওয়া গ্যাসের সিলিন্ডার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।