যথাযোগ্য মর্যাদায় সিলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
প্রকাশিত: 06:39 বিকাল, 05 আগ 2026
সিলেটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা সভা ও শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট শিল্পকলা একাডেমিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, অস্থিমজ্জার মধ্যে জবাবদিহি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাকে ধারণ করলে দেশকে পরিবর্তন করা কঠিন কিছু না মন্তব্য করে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ আছে। বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানী। আর জ্বালানি খাতে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে গত ১৭ বছরের সরকারের অব্যবস্থাপনা জন্য।
জ্বালানী সঙ্কট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল এই দেশ৷ জ্বালানী চাহিদা মেটাতে, বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, বিনিয়োগ আনতে কিছু সময় দিতে হবে, সেক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হলেও মেনে নিতে হবে৷
৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
এতে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, উন্নয়ন একটা সম্মিলিত প্রয়াস। তারুণ্যের শক্তি যেন সামাজিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকে, বিনষ্ট না হয়- এটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম শর্ত। আগামী দিনে সেরকম বাংলাদেশ গড়তে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাবে সরকার।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া জুলাই যোদ্ধারা অভিযোগ করেন, তারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অসম্মানিত হন।
পর্যাপ্ত মর্যাদার আহ্বান জানিয়ে জুলাইযোদ্ধা লিটন আহমদ বলেন, ভাতা পাওয়ার জন্য কেউ আন্দোলনে যাননি। তিনি বলেন, গেজেট প্রাপ্ত জুলাই যোদ্ধারা বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে হুমকি পান। গেজেট যদি হুমকির কারণ হয়, সেটি কেড়ে নেয়া হোক।
এছাড়া জুলাইয়ের মামলার অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের অনেক সদস্য জুলাই যোদ্ধাদের কাছে ঘটনার ফুটেজ চান। অথচ কেউই ফুটেজ নেওয়ার জন্য আন্দোলনে যাননি।
এদিকে, শহিদ পরিবারের সদস্যরা নিজের স্বজনদের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। শহিদ পরিবারের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানান শহিদ পাভেলের বাবা। বাণিজ্য মন্ত্রীকে গোলাপগঞ্জের ৭ শহিদের কবর জিয়ারতের অনুরোধও জানান তিনি।
শহিদ সাংবাদিক এটিএম তুরাবের ভাই জাবুর আহমদ বলেন, ১৯ জুলাই কালেক্টরেট মসজিদের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়েছিল। সেটির নেতৃত্বে ছিলেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি শহিদ তুরাবের মরদেহ নিয়ে ঘটে যাওয়া হেনস্থার স্মৃতিচারণ করেন৷
রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, যেকোনো মূল্যে জুলাই যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কল্যাণ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সবাইকে সহযোগী হতে হবে।
অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের এমপি এম এ মালিক বলেন, জুলাই আন্দোলন না হলে এ দেশ সিকিম হতে পারত। অধ্যাপক ড. ইউনুসকে ধন্যবাদ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে বের করে দিয়েছেন। জুলাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা পাপেট সরকার তৈরি করে দেশের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছিল। জুলাই যোদ্ধারা আমাদের বন্ধু, এই দেশের গর্বিত সন্তান। কাউকে যেন কোনোভাবেই আমরা অবমূল্যায়ন না করি৷
সভায় ১৪ শহিদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে সভায় সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসা কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।