গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে কর্ণফুলীতে বৃষ্টিভেজা রাজপথে ১১ দলীয় ঐক্যের মিছিল
প্রকাশিত: 01:23 দুপুর, 05 আগ 2026
গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস সংকট নিরসন ও বিরোধী মতের ওপর হামলার প্রতিবাদে সমাবেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস সংকট নিরসন এবং সারাদেশে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিরোধী মতের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বৃষ্টিভেজা রাজপথে গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে কর্ণফুলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে একত্রিত হন। পরে টানা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত স্লোগান দেন এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। পরে এক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বর্তমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাষ্টার মনির আবছার চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ নুরুল আমিন। তিনি বলেন,
"জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সেই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং গণরায়ের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে।"
তিনি আরও বলেন,
"দেশের মানুষ আজ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা। গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকারকে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।"
সভাপতির বক্তব্যে মনির আবছার চৌধুরী বলেন,
"জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না। দেশের মানুষ একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
তিনি বলেন,
"গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি পুরো জাতির দাবি। জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত গণআন্দোলনের চেতনা অব্যাহত থাকবে।"
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক নুরুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল ফয়েজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কর্ণফুলী উপজেলার সেক্রেটারি মাওলানা আবরার, ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলার সাহিত্য সম্পাদক শোয়াইবুল ইসলাম মোরশেদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কর্ণফুলী উপজেলার অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হারুন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন মাহবুব আলী, ইলিয়াছ মেম্বার, আব্দুর রহমান, ডা. ইলিয়াস, মনজুর আলম, জিয়াউর রহমান, মুছা মেম্বার, মোস্তফা আল মাহমুদ ইমরোজ, মাওলানা মুছা ও গিয়াস উদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বক্তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংকট নিরসন এবং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। তারা গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যেও শত শত নেতা-কর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিছিল ও সমাবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া তাদের কর্মসূচিতে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি; বরং গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা ধারণ করেই তারা রাজপথে নেমেছেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।