আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনের শুভ উদ্বোধন: বিনিয়োগের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করলেন অর্থমন্ত্রী
প্রকাশিত: 08:23 রাত, 27 জুল 2026
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারায় বহুল প্রতীক্ষিত চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে উন্মোচিত হলো সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১২টায় নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এই ইকোনমিক জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিনিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন তা হলো-প্রথমত বিনিয়োগ, দ্বিতীয়ত বিনিয়োগ এবং তৃতীয়তও বিনিয়োগ। কারণ বিনিয়োগই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রধান চালিকাশক্তি হবে। আজ চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি বর্তমান সরকারের সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর অঙ্গীকারেরই একটি উজ্জ্বল প্রমাণ।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা অপ্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন কমিয়ে আনছি। বাংলাদেশ এখন সপ্তাহের সাত দিন, দিনে ২৪ ঘণ্টা ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। বিনিয়োগের স্বার্থে যা যা পরিবর্তন প্রয়োজন, তা আমরা সব সময় বিবেচনায় রাখছি। এমনকি আমরা আমাদের পুঁজিবাজারকেও সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করেছি। এসময় চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হোন। এতে আপনারা এখান থেকেই মূলধন সংগ্রহ করতে পারবেন, একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষও আপনাদের প্রকল্পের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আনোয়ারাকে একটি উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার হাব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দেশি-বিদেশি সকল বিনিয়োগকারীকে আস্বস্ত করে জানান যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখানে সম্পূর্ণ নিরাপদ, স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করবে। অপর বিশেষ অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই ইকোনমিক জোনকে চীন–বাংলাদেশ সহযোগিতার একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প এবং দুই দেশের এক দশকের যৌথ প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
স্বাগত বক্তব্যে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট ওয়াং বেনকিয়ান জানান, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ আইন–২০২৬ প্রণয়নের ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ ও ব্যবসাবান্ধব হয়েছে। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এই জোনে প্রথম কারখানার উৎপাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, আনোয়ারার স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এবং সিআরবিসি-এর ভাইস চেয়ারম্যান লি চাংগে।
এছাড়া সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, শাহজাহান চৌধুরী, জহিরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবুর রহমান শামীমসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষভাগে সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষর, অফিশিয়াল স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং স্মারক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।