আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হচ্ছে আগামীকাল সোমবার
প্রকাশিত: 08:10 সকাল, 26 জুল 2026
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় আগামীকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) প্রকল্প। কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই প্রকল্প শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করা এবং বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিসিএল) চেয়ারম্যান। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানে সিইআইজেড প্রকল্পের ওপর একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে এবং একটি সাব-লিজ চুক্তি সই হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিইআইজেডের স্লোগান উন্মোচন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের উদ্বোধন, প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে জেটি সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস সঞ্চালন সুবিধা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য তরল শোধনাগার, বহুমুখী জেটি, কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, সীমানা প্রাচীর ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এই অবকাঠামো প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা আসবে বৈদেশিক ঋণ থেকে এবং বাকি ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বহন করবে সরকার। চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার আওতায় এই বৈদেশিক অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির অংশ হিসেবে এই প্রকল্পের প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালে প্রকল্পের নির্মাণকাজে গতি আনতে নতুন উন্নয়নকারী হিসেবে নিয়োগ পায় চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট হবে এবং সৃষ্টি হবে এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান। এর মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং চট্টগ্রাম পরিণত হবে আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিকস হাবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে অবকাঠামো নির্মাণের গতি, প্রকৃত বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ এবং প্রকৃত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর—কারণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্মসূচির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নতুন ঘোষণা নয়, বরং বাস্তবায়নের সক্ষমতা প্রমাণ করা।