মইজ্জ্যারটেক মোড়ে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল সিএনজি চালকের, পলাতক চালক
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ব্যস্ততম মইজ্জ্যারটেক মোড়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক সিএনজি অটোরিকশা চালক নিহত এবং অপর একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জ্যারটেক চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই বাসচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
নিহত সিএনজি চালকের নাম দোলন কান্তি দে সুমন (৫১)। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করে আসছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরেক সিএনজি চালক রুবেল (৩০)। তিনিও একই উপজেলার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় দোলন কান্তি দে সুমন তার সিএনজি (চট্টগ্রাম থ-১৪-৫৭৯৩) নিয়ে সিএমপি মইজ্জ্যারটেক চত্বর এলাকায় ইউটার্ন নিচ্ছিলেন। তার সিএনজির পাশে একটি অন-টেস্ট সিএনজি ছিল, যেটি চালাচ্ছিলেন রুবেল। এ সময় সামনে একটি সিমেন্ট কোম্পানির ট্রাক থাকায় দুটি সিএনজিই ধীরগতিতে চলছিল।
ঠিক তখনই শাহ আমানত সেতুর দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস (চট্ট মেট্রো-জ-১১-০৫২৪) পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় পাশাপাশি থাকা দুটি সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গুরুতর মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান দোলন কান্তি দে সুমন। অপরদিকে আহত রুবেলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, কর্ণফুলী থানা পুলিশ এবং কর্ণফুলী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মইজ্জ্যারটেক চত্বর দীর্ঘদিন ধরেই একটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। মহাসড়কের পাশে ভাসমান দোকান, অনিয়ন্ত্রিত ইউটার্ন এবং যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে এখানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. হানিফ বলেন, “মইজ্জ্যারটেক মোড় এখন দুর্ঘটনার হটস্পট হয়ে গেছে। এখানে বাসগুলো প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে চলে। আজ একজনের প্রাণ গেল, কাল হয়তো আরও কারও যাবে। প্রশাসনের এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “দুটি সিএনজি পাশাপাশি ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে দ্রুতগতির বাসটি এসে ধাক্কা দেয়। আঘাতের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, চালককে বাঁচানোর সুযোগই পাওয়া যায়নি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ বাকার বলেন, “দুর্ঘটনায় একজন সিএনজি চালক নিহত এবং অপর একজন আহত হয়েছেন। বাসটি জব্দ এবং পলাতক চালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।"