বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত ১২০ পরিবারের পাশে চট্টগ্রামস্থ স্বেচ্ছাসেবী প্রকৌশলী সমাজ

প্রকাশিত: 08:57 সকাল, 15 জুল 2026

চট্টগ্রামস্থ স্বেচ্ছাসেবী প্রকৌশলীদের উদ্যোগে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার দুর্গম শেখেরখীল ইউনিয়নের ২, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং ছনুয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ১২০টির অধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

‎সোম ও মঙ্গলবার (১৩ ও ১৪ জুলাই) আয়োজিত এ মানবিক কার্যক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, বিশুদ্ধ পানীয় পানি, শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সুশৃঙ্খল পরিবেশে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

‎ত্রাণ কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রকৌশলী ইশতিয়াক রায়হান মাহমুদ, প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম,, প্রকৌশলী ফাহাদ আহমেদ, প্রকৌশলী তৌফিক বাঁধন, প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, প্রকৌশলী আল-আমিন ইসলাম ও প্রকৌশলী সাজিদ হোসেনসহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী প্রকৌশলীরা। এছাড়া নেপথ্যে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন সংগঠনের সিনিয়র প্রকৌশলীরা।

‎ত্রাণ পেয়ে ছনুয়া ইউনিয়নের ১ নং পাড়ার বন্যাকবলিত বাসিন্দা তাহারা বেগম বলেন, “বন্যার পর কয়েকদিন ধরে খুব কষ্টে ছিলাম। ঘরে খাবার ছিল না, কীভাবে পরিবার নিয়ে চলব বুঝতে পারছিলাম না। আজ যারা আমাদের হাতে ত্রাণ তুলে দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দেন।”

‎চট্টগ্রামস্থ স্বেচ্ছাসেবী প্রকৌশলী সমাজের আয়োজকরা বলেন, “বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। তবে জরুরি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাসস্থান, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবিকা পুনরুদ্ধারে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মানবিক সংগঠন ও সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। টেকসই পুনর্বাসনের মাধ্যমেই বন্যাদুর্গত মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।”

বন্যার্তদের জন্য আয়োজিত আজকের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের সমন্বয়ক প্রকৌশলী সহিদুজ্জামান কিরণ বলেন, “দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। মানবতার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা আজ বন্যার্ত মানুষের কাছে সামান্য সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও দায়িত্ববোধের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও যে কোনো দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যয় রয়েছে। এ মহতী উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা সকল দাতা, শুভানুধ্যায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।