কর্ণফুলীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার, লুট হওয়া অস্ত্র কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ

প্রকাশিত: 06:31 সকাল, 11 জুল 2026

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় গভীর রাতে বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিত্যক্ত অবস্থায় ঝোপের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে, এটি পূর্বে কোনো থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি হতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়; তদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার পরই প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈন্যারটেক পুল এলাকার চার রাস্তার মোড়সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণফুলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হাসানাত মোহাম্মদ মাজেদুল হকের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) জুয়েল মজুমদার ও সঙ্গীয় ফোর্স বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ঝোপের ভেতর থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পরে সেটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ব্রাজিলের টরাস (Taurus) কোম্পানির তৈরি ৯ এমএম ক্যালিবারের একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় পিস্তল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি টরাসের জি-৩ (G3) সিরিজের মডেলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও এ ধরনের পিস্তল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি কোনো সরকারি সংস্থার বরাদ্দকৃত অস্ত্র কিনা, কিংবা অতীতে কোনো থানা বা সরকারি স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে ব্যালিস্টিক পরীক্ষা, সিরিয়াল নম্বর যাচাই এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।
পুলিশ আরও জানায়, অস্ত্রটি কীভাবে ঘটনাস্থলে এল, কারা এটি ফেলে রেখে গেছে এবং এর সঙ্গে কোনো অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, সেসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের কাজও চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নির্জন স্থানে এ ধরনের বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, অস্ত্রটির উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা উচিত, যাতে এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি না হয়।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ারউদ্দিন অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রটির উৎস, মালিকানা এবং এটি কোনো লুট হওয়া অস্ত্র কিনা, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। সব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”