টিআই বাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা বলছে স্থানীয়রা—‘অভিযানেই ক্ষুব্ধ স্বার্থান্বেষী মহল’

প্রকাশিত: 02:39 দুপুর, 06 জুল 2026

‎চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক বক্সকে ঘিরে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ওই প্রতিবেদনে ট্রাফিক পুলিশের টিআই আবু সাঈদ বাকারের বিরুদ্ধে জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ টোকেন বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হলেও স্থানীয়দের একাংশ, সিএনজি চালক এবং সচেতন নাগরিকরা এসব অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন।‎‎স্থানীয়দের ভাষ্য, কর্ণফুলী হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পরিবহন চলাচল এবং টোকেন বাণিজ্যের চেষ্টা বিভিন্ন সময়ে দেখা গেলেও বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির কারণে সেই সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। এতে অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত একটি স্বার্থান্বেষী চক্র আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সেই কারণেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) আবু সাঈদ বাকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।‎‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মহাসড়কে অবৈধ গ্রামীণ সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের ফলে অনেক অবৈধ যানবাহন আটক এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে যেসব ব্যক্তি অবৈধ পরিবহন থেকে অর্থ আদায় করতেন বা এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তারাই এখন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন বলে তারা মনে করেন।‎‎প্রতিবেদকের হাতে থাকা অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ ধারাবাহিকভাবে অবৈধ পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে। চলতি মাসের গত ৫ দিনে আটক করা হয়েছে সিএনজি, ড্রাম ট্রাক, ব্যাটারি চালিত রিকশা, পিক আপ, মোটরসাইকেল সহ বিভিন্ন পরিবহনের অর্ধশতকের বেশি। স্থানীয়দের দাবি, যদি কোনো ধরনের অবৈধ টোকেন ব্যবস্থার মাধ্যমে যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান ও যানবাহন জব্দের ঘটনা ঘটত না।‎‎সিএনজি চালক আবুল কাশেম, জাহাঙ্গীর আলম, তৈয়বুর ইসলাম, রফিক আহমদ বলেন, মহাসড়কে আইন প্রয়োগ আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে। নিয়ম না মানলে মামলা ও জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কারণে অনেক অসাধু ব্যক্তি ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়াচ্ছেন।‎‎স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরাও মনে করেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে অবশ্যই তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত হওয়া উচিত। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করলে তা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।‎‎এ বিষয়ে টিআই আবু সাঈদ বাকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবসময় আইন মেনে কাজ করেন। অবৈধ যানবাহন এবং যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে। তিনি দাবি করেন, আইন প্রয়োগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।‎‎অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক (বন্দর) বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।‎‎স্থানীয়দের মতে, কর্ণফুলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে জনমনের বিভ্রান্তি দূর হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থাও আরও সুদৃঢ় হবে।