সিলেটে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন, সুস্থ জীবনধারার ওপর গুরুত্বারোপ

প্রকাশিত: 04:47 দুপুর, 20 জুন 2026

"সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস"-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টায় নগরীর আরামবাগস্থ এক অভিজাত কনভেনশন সেন্টারে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং সিলেট ৬ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ ব্যস্ত ও যান্ত্রিক হয়ে উঠছে। এর ফলে শারীরিক নানা জটিলতার পাশাপাশি মানসিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যোগব্যায়াম শরীর ও মনের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে। সুস্থ, কর্মক্ষম ও সচেতন নাগরিক গঠনে নিয়মিত যোগচর্চার বিকল্প নেই।”

এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “ নিয়মিত যোগচর্চা মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় এবং সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করে। একটি সুস্থ সমাজ ও সুস্থ জাতি গঠনে যোগচর্চার প্রসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। তিনি বলেন, যোগচর্চা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অর্জনেও সহায়তা করে। বর্তমান বিশ্বের দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় যোগব্যায়াম মানুষের মধ্যে ভারসাম্য, ইতিবাচকতা এবং সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “যোগ আজ বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। জাতি, ধর্ম ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে যোগ এখন মানবকল্যাণের এক সার্বজনীন মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

তিনি দ্বাদশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল বিষয় ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’-এর প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া। তিনি আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে উপস্থিত সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং যোগচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার, প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী মোঃ মাহবুবুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জুবায়ের হোসাইন, সিনিয়র সহ-সভাপতি ফিরদৌস আলম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ, আহ্বায়ক অঞ্জন ঘোষ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট মহানগরের সদস্য সচিব উজ্জ্বল রঞ্জন চন্দ, ছাতলাপুর স্থলবন্দরের সভাপতি মোর্শেদুর রহমান সাজু,রামকৃষ্ণ মন্দিরের স্বামী পরাতরানন্দ মহারাজ, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ গোলজার আহমদ হেলাল, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট সিলেট জেলার সিনিয়র আহ্বায়ক শিবব্রত ভৌমিক, সদস্য সচিব কল্লোল জ্যোতি বিশ্বাস জয়, সিলেট জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না, সিলেট মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুনায়েদ আহমদ জয়নুল,চাতলা শুল্ক স্টেশনের প্রধান উপদেষ্টা সেলিনা চৌধুরী এবং করিমউল্লাহ গ্রুপের সাফাতউল্লাহ খান।

পরে ট্রিপল এ-এর প্রতিষ্ঠাতা পদশ্রী দে-এর পরিচালনায় একটি বিশেষ যোগ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেশনে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন যোগাসন, প্রাণায়াম ও ধ্যানের কৌশল প্রদর্শন করা হয়। উপস্থিত যোগপ্রেমীরা উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে যোগচর্চায় অংশ নেন।

Yoga Session এর ট্রেইনার বলেন,Youga Is Not Only A Exercise,Youga Is A Way Of Life.যোগ শুধু একটি ব্যায়াম নয়, যোগ একটি জীবনধারা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জান্নাতুল নাজনীন আশা ও নাহিদা খান সুর্মি। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে বাস্তবায়নে সিলেটের স্থানীয় ওয়েলনেস সংগঠন ‘ট্রিপল এ’ এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের (বিওয়াইডি) সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবের পর বিশ্বের ১৭৭টি দেশ এ প্রস্তাবের সহ-উপস্থাপক হিসেবে সমর্থন জানায়, যা জাতিসংঘের ইতিহাসে অন্যতম সর্বাধিক সমর্থিত প্রস্তাব হিসেবে বিবেচিত। এরপর থেকে প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা হচ্ছে। বছরের দীর্ঘতম দিন হিসেবে পরিচিত ২১ জুনকে মানবদেহ, মন ও প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। সুস্থ জীবনযাপন, মানসিক প্রশান্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক কল্যাণে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরতেই আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের আয়োজন করা হয়।