'পকেট কমিটি দলের জন্য দুর্ভোগ ডেকে আনবে’—ফয়সাল ভূঁইয়া মামুন
চট্টগ্রাম নগরীর কোতয়ালী থানা যুবদলের যুব সংগঠক ফয়সাল ভূঁইয়া মামুনের উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মী প্রীতি সভায় দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। যুব সংগঠক মোঃ ফয়সাল ভূঁইয়া মামুন বলেন, “পকেট কমিটি করে দলকে দুর্বল করা যাবে না। যারা দুঃসময়ে রাজপথে ছিল, হামলা-মামলা সহ্য করেছে, ব্যবসা হারিয়েছে, পরিবার নিয়ে কষ্ট করেছে—তাদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদীদের নেতৃত্বে আনা হলে ভবিষ্যতে দলকে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।”রবিবার (১৭ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় নগরীর ফুটপাত হকার্স সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন কোতয়ালী থানা যুবদলের যুব সংগঠক ফয়সাল ভূঁইয়া মামুন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম শিপন।সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফয়সাল ভূঁইয়া মামুন বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের ছায়া ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে ধর্মকে ব্যবহার করে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে ‘জান্নাতের টিকেট’ বিক্রির রাজনীতি করে, তাদেরও প্রতিহত করতে হবে। দেশের মানুষ এখন সচেতন। তারা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে দেখতে চায়।”তিনি বলেন, “দলের কঠিন সময়ে যারা ঘরে থাকতে পারেনি, মামলা-হামলার ভয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছে, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিল—আজ তাদের অনেকেই অবমূল্যায়নের শিকার। অথচ সুবিধাবাদী একটি চক্র বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের লোক দিয়ে পকেট কমিটি গঠনের চেষ্টা করছে। এটি চলতে থাকলে দলের ভেতরে হতাশা ও বিভক্তি বাড়বে।”তিনি আরও বলেন, “আমরা সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে জোর দাবি জানাই, তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। কমিটির প্রতিটি স্তরে পরীক্ষিত ও নিবেদিত কর্মীদের স্থান নিশ্চিত করতে হবে। দলের জন্য যাদের কোনো ত্যাগ নেই, শুধু সুযোগ বুঝে রাজনীতিতে এসেছে—তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিলে সংগঠনের ক্ষতি হবে।”ফয়সাল ভূঁইয়া মামুন তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “দেশ ও দলের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের আদর্শ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।”সভায় বক্তব্য দেন কোতয়ালী থানা তাঁতি দলের সদস্য সচিব নাজির আকন, থানা ছাত্রদলের সদস্য রিদওয়ান, তরুণ দলের আহ্বায়ক আশরাফুল, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড আলকরণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ফরিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক কাশেম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য জাবেদ ও নাসির, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা রতন, ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের যুবনেতা মোঃ ডালিম, রিয়াদ, শামীম, রাজু, নাহিদুল ইসলাম রাজুসহ আরও অনেকে।এসময় তৃণমূল কর্মীরা বক্তব্যে নিজেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দল সরকার গঠনের পর অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী অবহেলা ও অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্য হারিয়েছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটিয়েছেন; কিন্তু এখন তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।বক্তারা আরও বলেন, দলের সুসংগঠিত ভবিষ্যতের জন্য ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, যুবদল, তাঁতি দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।