কর্ণফুলীতে জমি বিরোধে গৃহবধূ নির্যাতন, স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূকে মারধর, শ্লীলতাহানি, ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মিনু আক্তার (৩৩) চট্টগ্রামের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিনু আক্তার দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও শ্বশুরের সঙ্গে পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে ছিলেন। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে জমি ভাগ-বণ্টন সম্পন্ন হলেও অভিযুক্তরা তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২ মে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মিনু আক্তারের স্বামী ও শ্বশুর বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে তার বসতঘরের সামনে এসে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা মিনু আক্তারের গোয়ালঘরে ভাঙচুর চালালে তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এ সময় অভিযুক্তরা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করে এবং পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এমনকি একজন অভিযুক্ত তার গলায় চাপ প্রয়োগ করে হত্যার চেষ্টা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় তার গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য আনুমানিক ১ লাখ টাকা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
এছাড়া হামলাকারীরা গোয়ালঘর, সীমানা পিলার এবং বাড়ির আশপাশে থাকা বিভিন্ন গাছপালা ভাঙচুর করে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মিনু আক্তার জানান, তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে স্বামী ও শ্বশুর এসে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয় বলে তিনি দাবি করেন।
মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে একই পরিবারের চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—মো. আক্কাস (২৮), মো. হাসান (২২), জাগির আহম্মদ (৬০) ও খতিজা খাতুন (৪৮)।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে এবং আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রাণনাশের ভয় দেখাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তারা বলেন, “ঘটনার দিন চিৎকার শুনে আমরা গিয়ে দেখি মহিলা মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “পারিবারিক বিরোধ অনেক দিন ধরেই ছিল। কিন্তু এভাবে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।হামলার ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্কে দিন পার করছে ভুক্তভোগী পরিবার এমনটি জানিয়েছেন বাদির শশুর জগির আহমদ।