ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস লড়াই, টানা তৃতীয়বার জয় বাঘা শরীফের

প্রকাশিত: 12:56 দুপুর, 25 এপ্র 2026

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে অনুষ্ঠিত ১১৭তম আবদুল জব্বার স্মৃতি বলীখেলায় টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাঘা শরীফ। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অনুষ্ঠিত জমজমাট ফাইনালে একই জেলার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ বলীকে পরাজিত করে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
বিকেল থেকে শুরু হওয়া মূল প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১০৮ জন বলী অংশ নেন। শুরু থেকেই লড়াই ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একের পর এক ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেন বাঘা শরীফ ও রাশেদ। গত দুই আসরের মতো এবারও ফাইনালে এই দুই বলীর মুখোমুখি হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়।
ফাইনাল ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত রুদ্ধশ্বাস ও উপভোগ্য। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকেন দুই বলী। প্রায় ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড ধরে চলা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কৌশল, শক্তি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে রাশেদকে পরাস্ত করে জয় নিশ্চিত করেন বাঘা শরীফ। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি টানা তিনবার শিরোপা জিতে বলীখেলার অঙ্গনে নিজের আধিপত্য আরও দৃঢ় করেন।
এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে মিঠুকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন রাশেদ বলী। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাঘা শরীফ ও শাহ জালালের ম্যাচ সমঝোতার ভিত্তিতে বাঘা শরীফের পক্ষে যায়। ফলে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হন বাঘা শরীফ ও রাশেদ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয় পান মিঠু।
চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা। আর রানারআপ রাশেদ বলী কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের নসরাইল গ্রামের বাসিন্দা। তাদের এই ধারাবাহিক লড়াই ইতোমধ্যে বলীখেলার দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
বলীখেলাকে কেন্দ্র করে লালদিঘী মাঠ ও আশপাশের এলাকায় ছিল উৎসবের আমেজ। মাঠজুড়ে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ফাইনাল ম্যাচটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ। প্রতিটি লড়াইয়ে দর্শকদের উল্লাস, করতালি ও চিৎকারে মুখর ছিল পুরো মাঠ।
এদিকে বলীখেলাকে ঘিরে বসা বৈশাখী মেলাতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই বিভিন্ন পণ্যের দোকান, গ্রামীণ খাবারের স্টল এবং বিনোদনের নানা আয়োজন ঘিরে লালদিঘী এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই মেলায় অংশ নেন এবং দিনভর কেনাকাটা ও ঘুরে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে সময় কাটান।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী বলীখেলা শুধু ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং চট্টগ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
স্থানীয়দের মতে, জব্বারের বলীখেলা গ্রামীণ ক্রীড়ার এক অনন্য নিদর্শন, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শক্তি, সাহস ও ঐতিহ্যের বার্তা বহন করে চলেছে। এবারের আসরেও সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাঘা শরীফের হ্যাটট্রিক জয় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই ঐতিহাসিক আয়োজনের মর্যাদায়।