নির্বাচন চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবীতে-বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের স্মারকলিপি
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ :
Mar 5, 2026 ইং
-
পঠিত: ২৩২ বার
চনির্বাচন চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবীতে-প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার,একাধিক দূতাবাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের স্মারকলিপি প্রদান।
অতীতের জাতীয় নির্বাচন ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ সংখ্যালঘুদের উপর বয়ে যাওয়া সহিংসতা-নির্যাতনের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং নির্বাচন পরবর্তী সংখ্যালঘুদের উপর কুচক্রী মহল কর্তৃক সহিংসতা- নির্যাতন আশংকা ও সুরক্ষার দাবীতে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ জাতীয় কমিটির পক্ষে প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, একাধিক রাষ্টদূতসহ একাধিক দপ্তরে স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।
১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উল্লেখিত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ জাতীয় কমিটি (বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘ যুব - WFBY ও বিশ্ব বৌদ্ধ দেশের সংঘটনের জোট-WABএর বাংলাদেশ কেন্দ্র) এর চেয়ারম্যান চিন্ময় বড়ুয়া রিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সীমান্ত বড়ুয়া স্বাক্ষরে সরাসরি/ ই-মেইলে প্রেরিত স্মারকলিপি সুত্রে জানা যায়-
জাতি ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যে দল বা জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করবে, তারা পরবর্তী ৫ বছরের জন্য সরকার গঠন করবে। এ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে জনগণের ম্যান্ডেট গ্রহণের লক্ষ্যে একটি গণভোট (জনমত যাচাই অনুষ্ঠান) অনুষ্ঠিত হবে। এই দুটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ একইসাথে সম্পন্ন করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাতে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীরা স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন পরিতাপের বিষয় এই যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতির এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের ঠিক প্রাক্কালে, আমরা - এই ভূমিতে বসবাসকারী বৌদ্ধরা (অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলিতভাবে) অতীতের প্রায় সব জাতীয় নির্বাচনের সময় যে নির্বাচনী সহিংসতার অভিজ্ঞতা লাভ করেছি, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও নির্বাচন চলাকালীন ও পরবর্তীতে সংখ্যালঘুরা গুরুতরভাবে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় বিরাজমান। যদিও জাতীয় নির্বাচন গোপন ব্যালটের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়, তথাপি একটি স্বার্থান্বেষী মহল সাধারণ মানুষকে বুঝাতে সক্ষম হয় যে, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর লোকজন কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষেই ভোট প্রদান করে। এই ধারণার ফলেই নির্বাচনে পরাজিত দলের প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় সংখ্যালঘু জনগণ। নির্বাচনের রাতেই, যখন কেন্দ্রগুলো থেকে ফলাফল আসতে শুরু করে, তখনই অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, ধর্ষণ, মারধর ও নানাবিধ সহিংসতার মাধ্যমে এই প্রতিশোধ কার্যকর হতে থাকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের উপর, যা নতুন নির্বাচিত সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। যে দলটি সংখ্যালঘুদের সব ভোট পায় বলে মনে করা হয়, সেই দলের মোট প্রাপ্ত ভোটসংখ্যা সংখ্যালঘু জনগণের মোট ভোটসংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি। এর অর্থ হলো, উক্ত দলটি অবশ্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের কাছ থেকেও বিপুল ভোট পায়। কিন্তু তারপরও কেবল সংখ্যালঘু জনগণকেই ওই দলকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এটি নিঃসন্দেহে চরম পরিহাসের এক দৃষ্টান্ত। আবার যেহেতু কেউ বা কোনো দল এ ধরনের অসহায় জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত নৃশংসতার দায় স্বীকার করে না, তাই তাদের এহেন কর্মকান্ডকে কাপুরুষতা হিসেবে সনাক্ত করতে হয়।
যখন বহুল প্রত্যাশিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতির দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন উপরোক্ত বাস্তবতা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আমরা জানি না, এবার আমাদের কী ধরনের প্রতিহিংসার মুখোমুখি হতে হবে। আমরা জানি না, আমাদের মধ্যে কতজন তাদের ঘরবাড়ি হারাবে, কতজন প্রাণ হারাবে, কতজন ধর্ষণের শিকার হবে, আর কতগুলো মন্দির ভাঙচুর করা হবে। কখনো কখনো, এ ধরনের প্রতিশোধ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে আমরা একটি জাতীয় পর্যায়ের সংখ্যালঘু রাজনৈতিক দল গঠনের কথা ভাবি, যা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় গোষ্ঠীর কোনো একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে গঠিত হবে (কারণ এই ধরণের দল গড়ার উদ্যোগ সংখ্যালঘুদের দ্বারা নেয়া হলে, সংখ্যালঘুরা আরো মারাত্মক অত্যাচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে) যেমন ব্রিটিশ আমলা অক্টাভিয়ান হিউম অল-ইন্ডিয়া কংগ্রেস গঠন করেছিলেন, যাতে ভারতীয়রা তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছে তাদের দাবি উপস্থাপন করতে পারে। যদি এমন একটি দলের অস্তিত্ব থাকে, তবে সব সংখ্যালঘু জনগণ সেই দলে ভোট দিবে। বলাই বাহুল্য, এই সংখ্যালঘু দল সরকার গঠন করতে পারবে না, এবং সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘু জনগণকে কোনোভাবেই সহিংসতার লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে, যেহেতু উক্ত নৃশংসতা থেকে নিজেদের রক্ষা করার মতো কার্যকর কোনো উপায় আমাদের হাতে এখনো পর্যন্ত নেই, তাই আমরা—একদল অসহায় মানুষ (যাদের অন্তর্ভুক্তি ব্যতিরেকে জাতি হিসেবে আমরা অপূর্ণ) বিনীতভাবে আপনার সানুগ্রহ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দুষ্কৃতিকারীদের উল্লেখিত ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা নস্যাৎ করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমুহের তৎপরতায় সতর্কতামূলক কিছু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Utfal Barua
কমেন্ট বক্স