ঢাকা | বঙ্গাব্দ

শিল্পাঞ্চল কর্ণফুলীতে জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশাসন-স্বাস্থ্যখাতের আলোচনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 9, 2026 ইং
  • পঠিত: ৭৮ বার
Overlay/Verification
চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল কর্ণফুলীতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও এ থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যখাতের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে এই সভায় বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ব্র্যাকের ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য’ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও ষপরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) আলী আকবরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব কান্তি রুদ্র। সভায় বক্তারা বলেন, চরপাথরঘাটাসহ কর্ণফুলীর বিভিন্ন এলাকা একদিকে শিল্পকারখানার কারণে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এখানে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অপরিকল্পিত ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার কারণে নদী দূষণ, জলাবদ্ধতা ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। কর্ণফুলী নদীতে কোনোভাবেই বর্জ্য ফেলা যাবে না উল্লেখ করে বক্তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ সময় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়—উপযুক্ত সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন নির্ধারণ করতে হবে। এতে একদিকে পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে কর্ণফুলীর টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মত দেন আলোচকরা। সভায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেসা নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফলভুক বাদুড়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায় এবং এটি মারাত্মক প্রাণঘাতী। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা এবং পশু-পাখির খাওয়া ফল পরিহার করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর ওপর জোর দেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সজীব কান্তি রুদ্র বলেন, কর্ণফুলীকে টেকসই শিল্পাঞ্চলে রূপ দিতে হলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, অনেক এলাকায় সড়ক দখল, নালা-নর্দমার দুরবস্থা এবং অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন কর্ণফুলীর মানুষ অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, খুব শিগগিরই উপজেলায় দুটি অ্যাম্বুলেন্স চালু করা হবে—একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অপরটি ফায়ার সার্ভিসের অধীনে। সভায় ব্র্যাকের কর্মসূচি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা কর্ণফুলীতে জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana

কমেন্ট বক্স