নেসলের মালিকানাধীন ব্র্যান্ড পেরিয়ের বোতলজাত পানি বাজার থেকে সরানো হবে কি না তা নিয়ে মঙ্গলবার রায় দিতে চলেছে ফ্রান্সের আদালত।
এই পানির বোতলের গায়ে লাগানো আছে ‘প্রাকৃতিক মিনারেল পানি’র লেবেল। কিন্তু সেই পানি প্রকৃতই প্রাকৃতিক নয় বলে অভিযোগ আছে।
ভোক্তা সংগঠন ইউএফসি-কে শোয়াজির অভিযোগ, পেরিয়ে বোতলজাত পানিকে “ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার” হিসেবে বাজারে ছাড়া হয়েছে, যা প্রতারণামূলক।
এই অভিযোগেই ভোক্তা সংগঠনটি জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ কামনা করে আদালতের শরনাপন্ন হয়।
ফ্রান্সের গণমাধ্যম গতবছর তাদের প্রতিবেদনে বলেছিল, পেরিয়ে ও অন্যান্য ‘মিনারেল ওয়াটার’ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো দূষণ রোধে পানি অবৈধভাবে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করছে।
সেই খবর প্রকাশের পর থেকেই নেসলের মালিকানাধীন এই ব্র্যান্ডটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
ফ্রান্সের সিনেটের একটি তদন্ত কমিশন মে মাসে জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে বছরের পর বছর পানি অবৈধ পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করার এই তথ্য ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল।
এদিকে, নেসলে জানায় তারা পানি প্রক্রিয়াজাত করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে এবং বর্তমানে তারা আগের পদ্ধতি থেকে সরে এসে মাইক্রোফিল্ট্রেশন পদ্ধতি ব্যবহার করছে। কোম্পানির দাবি, এটি নিরাপদ এবং পানির খনিজ উপাদান এতে অপরিবর্তিত থাকবে।
তবে ভোক্তা সংগঠন ইউএফসি-কে শোয়াজি বলছে, মাইক্রোফিল্ট্রেশনও আরেক ধরনের পানি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রক্রিয়া, যা কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নয়। দূষণরোধে এ পদ্ধতি ব্যবহারে তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ভোক্তা সংগঠনের ভাষ্য, “প্রাকৃতিক মিনারেল ওয়াটার’ লেবেল লাগানো পেরিয়ে বোতলের পানি আসলে প্রাকৃতিক নয়। নেসলে এই ধরনের অবৈধ প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি কাজে লাগাচ্ছে এবং এখনও তা করে চলেছে।”
নেসলে ওয়াটারস ফ্রান্সের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা ইউএফসি-কে শোয়াজির সব দাবি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছি।” পেরিয়ে এর টিয়ারড্রপ আকৃতির সবুজ বোতলের জন্য সুপরিচিত।
১৯ শতকের শেষের দিকে দক্ষিণ ফ্রান্সের ঝর্ণার পানি থেকে পেরিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং তা বিশ্বব্যাপী বাজারজাত করা হয়েছে। নেসলে ১৯৯২ সাল থেকে ব্র্যান্ডটির মালিক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক ইনফো বাংলা
দৈনিক ইনফো বাংলা