ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশে গুম মামলার আসামি ১৫ কর্মকর্তার কারাবাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 9, 2026 ইং
  • পঠিত: ৭৪ বার
Overlay/Verification
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরায় গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ১৫ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক আসামিদের বিষয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল–১ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আদালতকে বিষয়টি অবহিত করেন। এর আগে সকাল ৭টার পরপরই ১৫ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে একজন অবসরকালীন ছুটিতে রয়েছেন। আদালতের আদেশে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, দুটি গুমের মামলা এবং একটি জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরা এলাকায় গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার মামলা—মোট তিনটি মামলায় আসামিদের হাজির করা হয়েছে। এসব মামলায় গত ৮ অক্টোবর ফরমাল চার্জ দাখিলের পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আজ আদালতে উপস্থাপনের পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। গুমের মামলাগুলোর একটি ছিল টিএফআই সেল সংক্রান্ত, যেখানে ১৪ জনকে গুম করে রাখার অভিযোগ আনা হয়। সেই মামলায় ১০ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। অন্য মামলাটি ছিল জেআইসি সেলের অধীনে গুম-নির্যাতনের অভিযোগে, যেখানে ১৩ জন আসামির মধ্যে তিনজনকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়। তৃতীয় মামলা ছিল ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় রামপুরা এলাকায় বিজিবি সদস্যদের গুলি চালিয়ে ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা। সেই মামলার আসামিদেরও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ নভেম্বর। অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আদালত বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আদালতের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে। সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ১৫ কর্মকর্তাকে নিজ হেফাজত থেকে আদালতে হাজির করেছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে তারা কারা কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকবেন। উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর গুম ও নির্যাতন সংক্রান্ত দুটি মামলা এবং জুলাই আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় তৃতীয় একটি মামলা ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এসব মামলায় শেখ হাসিনা ও তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকীসহ একাধিক সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, র‍্যাব ও সেনা কর্মকর্তার নাম রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Sarwar Rana

কমেন্ট বক্স