মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গৌছুল উলুম এতিমখানা মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।তরুণ উদ্দোক্তা কবির হোসেন শোভন ও ইমরানুর রহমান তালুকদার নয়ন এর সার্বিক সহযোগিতায় মধ্যাহ্নভোজে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল—এখানে ছিল না ধনী-গরিবের কোনো ভেদাভেদ।মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একই ফ্লোরে,একই সারিতে বসে খাবার গ্রহণ করেন আয়োজকসহ উপস্থিত সবাই।একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য পরিবেশ যা জন্ম দিয়েছে এক বিরল ইতিহাস।আয়োজক সাংবাদিক ও সমাজসেবক মোঃ আমীর হোসেন সোহাগ বলেন, সমাজে আমরা অনেক সময় মানুষের আর্থিক অবস্থান দিয়ে মানুষকে বিচার করি কিন্তু একটি খাবারের টেবিল কিংবা একই সারিতে বসে খাওয়ার মুহূর্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষ হিসেবে আমাদের পরিচয় একটাই। অর্থ-বিত্ত, অবস্থান কিংবা সামাজিক মর্যাদার পার্থক্য থাকলেও ক্ষুধা, হাসি, ভালোবাসা ও অনুভূতিতে আমরা সবাই একই মানুষ।
তিনি বলেন,এতিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সমাজেরই সন্তান তাদের প্রতি দায়িত্ব শুধু কোনো বিশেষ দিন কিংবা দান-খয়রাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে,তাদের জীবন ও বাস্তবতা কাছ থেকে উপলব্ধি করতে হবে।
সমাজের বিত্তশালী ও সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আমীর হোসেন সোহাগ বলেন, প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে একজন এতিম শিক্ষার্থীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন,তার শিক্ষা, খাবার, পোশাক কিংবা প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় পাশে দাঁড়ান,তাহলে অনেক শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “শুধু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করাই মানবিকতা নয়; কখনো একজন অসহায় শিশুর পাশে বসে তার সঙ্গে খাবার খাওয়া, তার কথা শোনা এবং তাকে আপন করে নেওয়াও বড় মানবিক কাজ।”
মধ্যাহ্নভোজের সময় এতিমখানা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল আনন্দ ও উৎসাহ।এ প্রসঙ্গে মাদ্রাসার পীর সাহেবের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি আজকের আয়োজন ছিল সর্বশ্রেষ্ঠ আয়োজন কারণ সবাইকে নিয়ে একই সারিতে বসে খাবার নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।আয়োজক ও শিক্ষার্থীরা একই সারিতে বসে খাবার গ্রহণ করায় পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় একটি মানবিক মিলনমেলায়।
এমন উদ্যোগ সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের অসহায়, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।
মানবিকতার কোনো শ্রেণি নেই ভালোবাসার কোনো বিত্ত নেই একটি শিশুর মুখের হাসিই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম।এ প্রসঙ্গে আব্দুর রহিম এর কথা বললে তিনি জানান আজকের আয়োজন শুধু খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং শিখিয়ে দিয়েছে আমরা মানুষ, আমাদের মধ্যে নেই কোন ধনী গরীবের পার্থক্য এবং আপনার এক বেলা খাবার হাসি ফুটাতে পারে একজন অসহায় এতিম মানুষের।
Utfal Barua