চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা মাস্টারহাট এলাকায় মহিউদ্দিন নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিকলবাহা মাস্টারহাট এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই যুবকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে মহিউদ্দিনের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন বলে স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর মহিউদ্দিনের বড় ভাই মো. আলাউদ্দিন বাদী হয়ে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন। ২৬ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২৭/২৬-০৯-২০২৬। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর চার নম্বর আসামি মো. ফারুক (৩৩) নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। এরপর সোমবার সকালে মামলার প্রধান আসামিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদ বলেন, “মহিউদ্দিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে থানায় এনে মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হামলার প্রকৃত কারণ কী, তা বের করা হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে আমরা আশা করছি।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “মহিউদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। পুলিশ একজনের পর একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করায় মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তদন্ত করে তাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
এদিকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আহত মহিউদ্দিনের পরিবার, আহসানিয়াপাড়া মাদক নির্মূল কমিটি ও স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
Sarwar Rana