চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহায় মাদকবিরোধী তৎপরতাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে আহসানিয়াপাড়া মাদক নির্মূল কমিটি। এ সময় কমিটির নেতারা মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ভবিষ্যতে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে সামাজিকভাবে আরও সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিকলবাহার আহসানিয়াপাড়া এলাকায় কর্ণফুলী গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আহসানিয়াপাড়া ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিস্তারের কারণে স্থানীয় পরিবার ও তরুণ প্রজন্ম নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, মাদক নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই কমিটির সদস্যদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হামলার ঘটনা ঘটছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে শিকলবাহা মাস্টারহাট এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংকান্ত পূর্ব বিষয় নিয়ে ইব্রাহিম ও মহিউদ্দিনের মধ্যে বিরোধের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। একপর্যায়ে মহিউদ্দিনের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত মহিউদ্দিনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন বলে স্বজন ও স্থানীয়রা জানান।
মহিউদ্দিন আহসানিয়াপাড়া মাদক নির্মূল কমিটির একজন সদস্য বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। কমিটির নেতাদের দাবি, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণেই তাকে হামলার শিকার হতে হয়েছে। মহিউদ্দিনের ওপর হামলার কয়েক ঘণ্টা পর রাতের দিকে আহসানিয়াপাড়ায় মুজিবের ভাড়া বাসা ও গরুর খামারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনার পর একদল লোক সেখানে গিয়ে ইব্রাহিমকে খুঁজতে থাকে। পরে একটি কলোনি ও গোয়ালঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
মুজিবের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আগুনে তাদের গোয়ালঘরে থাকা পাঁচটি গরুর মধ্যে একটি মারা যায় এবং চারটি গরু নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সংবাদ সম্মেলনে কমিটির নেতারা এ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ভিন্ন দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, বিক্ষুব্ধ লোকজনের উপস্থিতিতে নিজেদের গোয়ালঘর ও কলোনিতে নিজেরাই আগুন দিয়ে সেখানে থাকা মাদকদ্রব্য পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মো. হারুন বলেন, মাদক নির্মূল করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজনে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এ সময় তিনি মহিউদ্দিনের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মাদকবিরোধী আন্দোলনে প্রয়োজনে আরও ত্যাগ স্বীকারের কথা বলেন।
কমিটির নেতারা বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে আহসানিয়াপাড়া মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এ কমিটিতে ২৮২ জন সদস্য রয়েছেন। মাদক নির্মূলের পাশাপাশি এলাকায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভবিষ্যতে সামাজিকভাবে আরও সংগঠিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম শাহীন, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন পারভেজ, মো. মামুনুর রশিদ, ইজাজ আল ফারুক, অ্যাডভোকেট মো. হারুন, মো. সেলিম ইমরান, ইঞ্জিনিয়ার মো. আজাদ, মো. ইকবাল, জহির আহমেদ, শাহবুদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
Sarwar Rana