সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম ও একাধিকবারের জনপ্রিয় মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের এই দিনে ভোর রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় না মারা যান এই জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ।
আজ ১৫ জুন, বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুর ছয় বছর পূর্ণ হচ্ছে। মৃত্যুর ছয় বছর পেরিয়ে গেলোও এখনও সিলেটবাসীর হৃদয়ে রয়ে গেছেন কামরান। তাকে মনে করা হয় সিলেটের ইতিহাসের অন্যত জনপিয় ও গণমানুষের নেতা।
২০২০ সালের ৫ জুন সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৬৯ বছর বয়সী কামরানের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তার আগে ২৭ মে তার স্ত্রী আসমা কামরান কোভিড-১৯ আক্রান্ত হন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুন কামরানকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুন ভোরে মারা যান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র কামরান। যিনি দীর্ঘদিন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যানেরও দায়িত্বে ছিলেন।
বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথমবার সিলেট পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে হন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান।
২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর কামরান মেয়র মনোনীত হন। ২০০৩ সালে সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে জিতে মেয়র পদ ধরে রাখেন তিনি।
২০০৭-০৮ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আরও অনেক রাজনীতিবিদের মত কামরানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
সে সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা কামরান কারাগারে থেকে নির্বাচন করেও বিপুল ভোটে জয়ী হন।
২০১৩ সালের নির্বাচনে বর্তমনা প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হেরে গিয়ে মেয়র পদ হারান কামরান। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি লড়েছিলেন, কিন্তু জয়ী হতে পারেননি।
১৯৮৯ সাল থেকে সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন কামরান। সেই দায়িত্ব তিনি সামলেছেন প্রায় দেড় যুগ।
২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ পাওয়া কামরান মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত একই পদে ছিলেন।
Utfal Barua